পাকুন্দিয়া ও ঈশ্বরদীতে বিপাকে দুগ্ধ খামারিরা

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২১, ২১:২৭

বাজারে ক্রেতার অভাব

ইত্তেফাক ডেস্ক

সংক্রমণ রোধে সারা দেশে চলমান লকডাউনে ক্রেতার অভাবে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া ও পাবনার ঈশ্বরদীতে বিপাকে পড়েছেন দুগ্ধ খামারিরা। পরিবহন, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, বিয়ে ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। হাটবাজারগুলোতেও কমে গেছে লোকের ভিড়। ফলে দুধ বিক্রির জন্য ক্রেতার অভাব দেখা দিয়েছে।

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, করোনায় ক্রেতাশূন্যতায় চরম বিপাকে পড়েছেন পাকুন্দিয়া উপজেলার প্রায় আড়াই হাজার দুগ্ধ খামারি। ক্রমাগত লোকসানের কারণে তাদের খামারগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে ছোট-বড় মিলে ২ হাজার ৫০০টি গাভির খামার রয়েছে। এসব খামার থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০ হাজার ৫০০ লিটার দুধ উত্পাদন হয়। এছাড়া হিসেবের বাইরেও গ্রামে অসংখ্য কৃষক রয়েছেন যারা একটি করে গাভি পালন করছেন। এসব দুধ উপজেলার বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট, মিষ্টি ও চায়ের দোকানসহ বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা হয়। অবশিষ্ট দুধ খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়। কিন্তু লকডাউনে গত তিন দিন ধরে ক্রেতারা দুধ কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে খামারিদের দুধ সরবরাহের জায়গা বন্ধ হয়ে গেছে। উপজেলার মঙলবাড়িয়া গ্রামের মুঞ্জুরুল হক জানান, তার খামারে পাঁচটি বিদেশি গাভি আছে। এসব গাভি থেকে প্রতিদিন তার ৯৬ লিটার দুধ উত্পাদন হয়। যেসব মিষ্টির দোকানে তিনি দুধ বিক্রি করতেন লকডাউনের কারণে সেসব দোকান বন্ধ থাকায় তিনি দুধ বিক্রি করতে পারছেন না। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, লকডাউনের কারণে হোটেল ও মিষ্টির দোকানগুলো হঠাত্ করে বন্ধ করে দেওয়ায় খামারিরা দুধ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। করোনার এই দুঃসময়ে খামারিদের দুধ বিক্রি করার জন্য ভ্রাম্যমাণ পরিবহনের ব্যবস্থা করা যায় কি না, বিষয়টি নিয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা জানান, ঈশ্বরদীর হাটবাজারে কম দামে দুধ বিক্রি করতে চাইলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। রবিবার সকালে এলাকার রাজাপুর, মুলাডুলি, দাশুড়িয়া, আড়ামবাড়িয়া, নতুনহাট ও আওতাপাড়ায় খোঁজ নিয়ে দুধ বিক্রি হচ্ছে না বলে জানা গেছে। ৫০ টাকা লিটারের দুধ এখন ২৫-৩০ টাকাতেও কেনার লোক নেই। যেকারণে অনেকেই এখন বাছুর দিয়ে দুধ খাইয়ে দিচ্ছে এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বিলিয়ে দিচ্ছে। তবে দুধ বিক্রি করতে না পারায় গো-খাদ্য যোগাড় করতে হিমশিম এবং দেনাগ্রস্ত হচ্ছে ছোট-বড় প্রায় সব খামারি। সাঁড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের কলেজ শিক্ষক আলমাস আলী জানান, ঘোষ প্রতিদিন এসে দুধ দুইয়ে নিয়ে যেত। এখন আর আসে না। বাজারে নিয়ে গেলে কেনার লোক নেই। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. রফিকুল ইসলাম জানান, ছোট-বড় মিলিয়ে ঈশ্বরদীতে প্রায় শতাধিক খামার রয়েছে। বিশেষ করে ছোট খামারিরা দুধ বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে গো-খাদ্য কিনে এবং পরিবারের ভরণপোষণ করে। কঠোর লকডাউনে খামারিরা দুধ বিক্রি করতে না পারায় চরম বেকায়দায় পড়েছেন।