কোরবানির পশুর হাট ও স্বাস্থ্যসচেতনতা

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২১, ২১:৩২

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ জুলাই মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উত্সব পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হইবে। দুই রাকাত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি এই ঈদের প্রধান অনুষঙ্গ হইল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে পশু কোরবানি করা। এই উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সমগ্র দেশে কোরবানির পশুর হাটগুলি সরগরম হইয়া উঠে। তবে এইবার করোনা মহামারির উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোরবানির পশুর হাটগুলিতে আইনশৃঙ্খলাজনিত ও স্বাস্থ্যগত উভয় নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে বাড়ানো দরকার স্থাস্থ্যসচেতনতা। গত বত্সর যখন ঈদুল আজহা পালিত হয়, তখনো করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাব ছিল। এই বত্সর এমন এক সময়ে কোরবানির ঈদ আসিতেছে, যখন সমগ্র দেশে চলিতেছে লকডাউন এবং পরিস্থিতি গত বত্সরের তুলনায় অধিক ভয়াবহ। এমতাবস্থায় কোরবানির পশুর হাটগুলিতে যাহাতে করোনার সংক্রমণ ছড়াইয়া পড়িতে না পারে, সেই ব্যাপারে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সচেতনতা ও তত্পরতার পরিচয় দিতে হইবে।

রাজধানী ঢাকায় এইবার বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশুর ২৩টি অস্থায়ীসহ মোট ২৫টি হাট বসানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হইয়াছে। ইহার মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বসিবে ১৩টি এবং ঢাকা উত্তরা সিটি করপোরেশনে বসিবে ১০টি পশুর হাট। ইহার পাশাপাশি উত্তর সিটি করপোরেশনের গাবতলী ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সারুলিয়ায় স্থায়ী পশুর হাটেও কোরবানির পশু বেচাকেনা চলিবে। তবে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের ছোবলে শেষ পর্যন্ত কোরবানির সকল পশুর হাট চালু করা সম্ভব হইবে কি না—তাহা এখনো নিশ্চিত নহে। গত বত্সর দুই সিটি করপোরেশনে ২৪টি হাট বসানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হইয়াছিল; কিন্তু করোনা সংক্রমণ বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত উত্তর সিটিতে ১০টির পরিবর্তে ছয়টি এবং দক্ষিণ সিটিতে ১৪টির পরিবর্তে ১১টি হাট বসানো হয়। যেইহেতু পশু কোরবানি করিবার ব্যাপারে ধর্মপ্রাণ মুসলমানের বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে, তাই করোনার কথা চিন্তা করিয়া কোরবানির পশুর হাটের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার প্রতি আমাদের নজর দিতে হইবে। ঢাকার বাহির হইতেই অধিকাংশ খামারি গরুসহ রাজধানীতে আসেন, তাই তাহাদের স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানিয়া চলিতে হইবে। বিশেষ করিয়া হাটে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাবান দিয়া হাত ধৌত করা, শরীরের তাপমাত্রা মাপা, ঠান্ডা-জ্বর ও কাশি থাকিলে তাহাদের পশুর হাটে প্রবেশে বারণ করা, স্বাস্থ্যবিধিসংবলিত পোস্টার ও ব্যানার টাঙানো, মাইকে প্রচার করা ইত্যাদির সুব্যবস্থা থাকা একান্ত প্রয়োজন। যাহারা হাটগুলি ইজারায় পাইবেন, তাহাদের হাট ব্যবস্থাপনার এই সকল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়াটাও জরুরি।

করোনা মহামারির বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে অনেকে কোরবানির পশুর হাটের সংখ্যা কমাইয়া অনলাইনে পশুর হাটের প্রতি অধিক গুরুত্ব প্রদান করিতেছেন। গত বত্সরও এমন ব্যবস্থা ছিল এবং ইহাতে স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটের উপর চাপ কিছুটা কম ছিল। এইবার গতকাল রবিবার হইতেই ডিজিটাল কোরবানির পশুর হাটের কার্যক্রম শুরু হইয়া গিয়াছে। এই ব্যাপারে যাহাতে কেহ প্রতারণার আশ্রয় লইতে না পারে, সেইদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখিতে হইবে। অনুসরণ করিতে হইবে এই সংক্রান্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গাইডলাইন। যাহারা অনলাইন কেনাকাটায় অভ্যস্ত নন বা হাটে যাইয়া সকল কিছু দেখিয়া-শুনিয়া কোরবানির পশু ক্রয় করিতে চাহেন, তাহাদের জন্য কোরবানির পশুর হাটই প্রধান ভরসা। হাটে প্রবেশে তাহাদের অবশ্যই মাস্ক পরিধান করিতে হইবে। অস্থায়ী হাটগুলি যাহাতে পর্যাপ্ত খোলামেলা জায়গায় হয়, সেদিকেও লক্ষ রাখিতে হইবে। ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ভারত হইতে বৈধ-অবৈধ পথে অনেক গবাদি পশু আসে এবং এই সময় বাড়ে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত। এই ব্যাপারেও আমাদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।