সন্তান থাকবে মায়ের কাছে, চাইলে বাবা দেখা করতে পারবেন

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২১, ২১:৪১

পারিবারিক আদালতের আদেশ হাইকোর্টে স্থগিত

ইত্তেফাক রিপোর্ট

স্বামী-স্ত্রী দুজনেই উচ্চশিক্ষিত। ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ভালোবেসে দুজনে ১৪ বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু দুই বছর আগে তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বাবা-মায়ের এই বিচ্ছেদের ঘটনায় একমাত্র কন্যাসন্তান কার জিম্মায় থাকবেন তা নিয়ে হলো মামলা। এরই মধ্যে সন্তানকে নিজ হেফাজতে নিতে আবেদন করেন পিতা। সেই আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকার পারিবারিক আদালত। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন মা। ঐ আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একক ভার্চুয়াল বেঞ্চ পারিবারিক আদালতের আদেশ গতকাল রবিবার স্থগিত করে দেন। একই সঙ্গে ১০ বছরের ঐ সন্তানকে মায়ের জিম্মায় রাখার আদেশ দিয়ে হাইকোর্ট বলেছে, বাবা চাইলে সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।

বাবা ও মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে দুজনই প্রতিষ্ঠিত। ২০০৭ সালে তারা বিয়ে করেন। ২০১১ সালে তাদের কন্যাসন্তান হয়। তার বয়স প্রায় ১০ বছর। পড়েন স্কুলে। মনোমালিন্য থেকে ২০১৯ সালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। কিন্তু সন্তান ছিল মায়ের কাছে। পরে বাবা মেয়েকে নিজের জিম্মায় নিতে পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। প্রথমে মায়ের জিম্মায় রাখার আদেশ দেন গত ১৬ জুন। ৩০ জুন ঐ আদেশ স্থগিত করে পারিবারিক আদালতের দ্বিতীয় অতিরিক্ত সহকারী জজ বলেন, আগামী ২১ দিন নাবালিকা সন্তান পিতার হেফাজতে থাকবে। তার মধ্যে মায়ের হেফাজতে থাকবে শুক্র ও শনিবার। বাবা সন্তানের অনলাইনে স্কুলের ক্লাসের ব্যবস্থা করবেন। বাদী ও বিবাদীর এবং তাদের পিতামাতার বাসার পরিবেশ দেখার জন্য, কার বাসায় কে থাকেন এবং উক্ত বিষয়ে সার্বিক প্রতিবেদনের জন্য ২১ দিনের মধ্যে হাজারীবাগ থানার ওসিকে নির্দেশ দেয় আদালত। নিম্ন আদালতের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন মেয়েটির মা।

আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। শুনানি শেষে পারিবারিক আদালতের আদেশ ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করে দেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্বাভাবিক কোর্ট খোলার পর বিষয়টি পরবর্তী আদেশের জন্য উপস্থাপন করতে আইনজীবীকে নির্দেশ দেয় আদালত।