ড্রাইভিং সিটে মেসি

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২১, ২১:৪৩

সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

কোপা আমেরিকা মাতিয়ে চলেছেন বিশ্ব ফুটবলের খুদে জাদুকর লিওনেল মেসি। তার অসাধারণ নৈপুণ্য একের পর এক তাক লাগিয়ে দিচ্ছে আলবিসেলেস্তে। কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে উঠেছেন মেসিরা। আর এই ম্যাচে গোল করেছেন, গোল করিয়েছেন মেসি। গতকাল বাংলাদেশ সময় ভোরে ব্রাজিলের গোইয়ানিয়া শহরে অলিম্পিক পেদ্র স্টেডিয়ামে কোপার কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে ইকুয়েডরকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। আর্জেন্টিনা টানা চার বার কোপার সেমিফাইনালে উঠল। আগামী বুধবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়া মুখোমুখি হবে, বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায়।

কোপা আমেরিকা টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা শুরু করেছিল ড্র দিয়ে। এরপর আর্জেন্টিনা এমনভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, এখন মেসিদের ঠেকানো কঠিন। বিশেষ করে মেসি এখন আর্জেন্টিনার ড্রাইভিং সিটে বসে আছেন। টেনে নিচ্ছেন আর্জেন্টিনাকে। মেসি উজ্জ্বলতা পরতে পরতে ছড়িয়ে যাচ্ছে ১২০ গজের ফুটবল-যুদ্ধে। ইকুয়েডরের বিপক্ষে মেসির লড়াই প্রথমে কঠিন হলেও তার ফুটবল-শৈলী সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বশ মানে ইকুয়েডর। ছন্দময় ফুটবল খেলেও মেসি যেন গোলের নিশানা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। মেসি গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে ফাঁকা পোস্টে শট করলে সেই বল সাইড পোস্টে লেগে ফিরেছে। অনটার্গেট শট করে প্রায় নিশ্চিতই হয়ে যাচ্ছিল গোলটা। কিন্তু কোনো না কোনোভাবে ইকুয়েডরের ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগেছে, না হয় ওরা ফিরিয়ে দিয়েছে। আর মেসি এতটাই ক্ষিপ্রগতির ছিলেন যে, তাকে ঠেকাতে গিয়ে ইকুয়েডরের ডিফেন্ডারদের যেন উসাইন বোল্টের চেয়েও বেশি দৌড়াতে হলো। মেসি অবশ্য বলেছেন, যতটা সহজ ভেবেছিলাম, ইকুয়েডর ততটা সহজ ছিল না। আকুনা, মার্টিনেজ, ওতামেন্ডি, গঞ্জালেস, সেলসো পেজ্জিলা—আমরা সবাই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলাম।’

মেসিদের সব চেষ্টা কাজে লেগেছে, ৩৯ মিনিটে গোল করিয়েছেন মেসি। গোল করেছেন রদ্রিগো দে পল (১-০)। প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করলেন পল, আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ২৭ নম্বর ম্যাচে। এরপর আবারও ইকুয়েডরের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর চেষ্টা। কিন্তু ওরা মেসিকে রুখতে গিয়ে শক্তিশালী আক্রমণ বিল্ডআপ করতে পারছিল না। ৮৩ মিনিটে আবার মেসির অ্যাসিস্ট থেকে দ্বিতীয় গোল, এবার লাউতেরো মার্টিনেজ গোল করেন (২-০)। ইকুয়েডর মাথা গরম করে খেলতে গিয়ে নিশ্চিত গোলের দিকে ধেয়ে আসা আর্জেন্টিনার বদলি নামা ডি মারিয়ারকে ফাউল করায় ৯১ মিনিটে ইকুয়েডরের হিনকাপাইকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। সেই ফাইনাল থেকে ফ্রিকিক পেয়ে দর্শনীয় গোল করেছেন মেসি। দেখার মতো গোল।

ভক্তরা যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন মেসি গোল পাওয়ায় (৩-০)। পুরো খেলায় যেন মেসির নৈপুণ্যই চোখে লেগে থাকল। মেসি বলছিলেন, ‘ইকুয়েডর ইয়াং, লম্বা লম্বা খেলোয়াড়। যে কারণে টেকনিক্যালি খেলে ম্যাচ জিততে হয়েছে।’