কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে ব্যবসায়ীরা আসতে পারেন না
সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, চট্টগ্রাম অফিস
দেশব্যাপী কঠোর লকডাউনে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ব্যবসা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৪০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাবেচা, সরবরাহ ও দেশের নানা প্রান্তে তা পরিবহনে কোনো বিধিনিষেধ না থাকলেও নানা প্রান্ত থেকে খুচরা বাজারের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যবসায়ীরা আসতে না পারায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। অবশ্য ব্যাবসায়িক সূত্রগুলো জানায়, লকডাউনের আগেভাগে খুচরা ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত পরিমাণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে নিয়ে যাওয়ায় বাজারে পণ্য সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। তবে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এখানে দিন-রাত কেনাবেচার যে তুমুল ব্যস্ততা থাকার কথা ছিল তা এখন নেই। ফলে হতাশ ব্যবসায়ীরা অপেক্ষায় তাকিয়ে আছেন সামনের দিনগুলোর দিকে।
এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে ভাটা পড়ায় পরিবহন ব্যবসায়ীরাও তাদের ব্যবসা কমে যাওয়ার কথা জানান। তবে সবাই আশা করছেন ঈদের আগে অন্তত দেড়-দুই সপ্তাহ যদি কেনাবেচা জমে উঠে তাহলে তারা পুষিয়ে নিতে পারবেন তাদের ক্ষতি। অবশ্য চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের আমদানিকারকরা তাদের আমদানি করা পণ্য ডেলিভারি অব্যাহত রেখেছেন। তাদের কাছ থেকে বাজারের পাইকাররাও পর্যাপ্ত পণ্য কিনে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করার প্রহর গুনছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য রয়েছে। তারা শুধু ভাবছেন চাহিদা অনুসারে দেশের নানা প্রান্তের খুচরা বাজারে সরবরাহের কথা। সরবরাহ কমে গেলে পণ্যের মূল্য উঠা-নামা করে। কঠোর লকডাউনের ব্যাপারে সরকারের আগাম প্রস্তুতি ও আভাস থাকায় খুচরা ব্যবসায়ীদের অনেকেই লকডাউন শুরুর আগেই তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে নিয়ে গেছেন বলেও কয়েকটি ব্যবসায়ী সূত্র জানায়। সূত্রগুলো জানায়, যেখানে আগে দৈনিক ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা থেকে ২ হাজার কোটি টাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাবেচা হয়েছে, লকডাউন শুরু হওয়ার পর গত দুদিনে দৈনিক তা এসে দাঁড়িয়েছে ৮০০ কোটি থেকে ৯০০ কোটি টাকায়।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগির আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, কঠোর লকডাউন পরিস্থিতিতে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ব্যবসা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে হ্রাস পেয়েছে। তবে বাজারে পণ্য সরবরাহ ও মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে। গত দুদিনেও দেশের নানা প্রান্তে খুচরা ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চালান ট্রাকে করে নিয়ে গেছেন। সাধারণত চাল, ডাল, মসলা, ভোজ্য তেল, চিনি, পেঁয়াজ ইত্যাদি গত দুদিনও এখান থেকে সরবরাহ হয়েছে। কঠোর লকডাউন পরিস্থিতিতে পণ্য কেনাবেচার পরিমাণকে আশানুরূপ বলা যাবে না। তবে পণ্য কেনাবেচায় ও সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই।
খাতুনগঞ্জ চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম ইত্তেফাককে বলেন, দেশের নানা প্রান্ত থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা পণ্য কেনার জন্য চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে আসতে পারছেন না। ফলে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ব্যবসা গত দুদিন ৪০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে।
