চট্টগ্রাম ওয়াসায় অনিয়ম বন্ধে সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নেই

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২১, ২১:৫৯

পানি সরবরাহের ৩০ শতাংশ সিস্টেম লস!

চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রাম ওয়াসায় অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে ইতিমধ্যে একাধিক কমিটি হয়েছে। কমিটিগুলো অনিয়মের কারণ চিহ্নিতও করেছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় বন্ধ হচ্ছে না। বিশেষ করে সিস্টেম লসের নামে পানি চুরি, মিটার নষ্টের কথা বলে গড় বিল আদায়, জনবলের সংকট দেখিয়ে ওভারটাইমের নামে প্রতি মাসে প্রচুর খরচ দেখানো হচ্ছে। কর্মকর্তাদের দাবি, সিস্টেম লসের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ। জরাজীর্ণ সরবরাহ লাইনের কারণে পাইপলাইনে ছিদ্র হয়ে পানি অপচয় হচ্ছে। ফলে প্রতি মাসে ওয়াসা কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসায় ১৩ সদস্যবিশিষ্ট পরিচালনা বোর্ডে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি রয়েছেন। প্রতি মাসে না হলেও দুই মাস অন্তর বোর্ডের সভা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সভায় অংশ গ্রহণের জন্য প্রতি সদস্য ১০ হাজার টাকা সম্মানি পেয়ে থাকেন। গতকাল মঙ্গলবারসহ প্রায়শই পরিচালনা বোর্ডের সভা হয়। এসব সভায় অনেক কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও বাস্তবে এসবের অধিকাংশই আলোর মুখ দেখে না। ফলে বছরের পর বছর অনিয়ম ও দুর্নীতি অব্যাহত রয়েছে।

পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম ইত্তেফাককে বলেন, ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে সমস্ত কাজের জন্য বোর্ডের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে কেউ অভিযোগ করলে বোর্ড তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে পারে। সিস্টেম লস কেন, কীভাবে হচ্ছে তার হিসেব দিতে হবে। কারণ জনগণের টাকায় পানি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

ওয়াসার বোর্ড সভার এক সদস্য জানান, সিস্টেম লস সিঙ্গেল ডিজিটে আনার জন্য ইতিপূর্বে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেমন নগরীকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে জোনভিত্তিক মিটার স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু পরে বিষয়টি চাপা পড়ে যায়। এটি করা গেলে সরবরাহ লাইন থেকে ঐ জোনে কী পরিমাণ পানি পাওয়া গেছে তা হিসাব করা সহজ হতো।

ওয়াসায় গড় বিলের নামে দীর্ঘদিন যাবত্ আরেক দুর্নীতি চলছে। ওয়াসার স্টোরে মিটার পড়ে থাকলেও গড় বিলের আওতাধীন গ্রাহকরা মিটার পান না। অভিযোগ রয়েছে রাজস্ব বিভাগের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও মিটার রিডারদের যোগসাজশে এই অনিয়ম বছরের পর বছর ধরে চলছে। এসব গ্রাহককে কম বিল দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায় করছেন তারা। এ ধরনের প্রায় ১২ হাজার গ্রাহক ছিল। তবে বর্তমানে এর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার বলে জানা গেছে। জানা যায়, গতকালের বোর্ড সভায় গড় বিলের সংযোগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটি এক মাসের মধ্যে তদন্ত করে এসব সংযোগে মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নেবে।