গাজীপুর প্রতিনিধি
গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গত সাত দিন ধরে পিসিআর মেশিন বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। এ কারণে হাসপাতালে করোনা পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। একটি নতুন পিসিআর মেশিনটি প্রদান করার জন্য ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
করোনা পরীক্ষার বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুরের তেঁতুইবাড়িতে অবস্থিত শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও ঢাকার মহাখালীতে জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এ মুহূর্তে বায়োসেপ্টিক কেবিনেটের মজুত না থাকায় আগামী আগস্টের আগে মেশিন চালুর সম্ভাবনা নেই।
তবে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর মেশিনটির বায়োসেপ্টিক কেবিনেটে ল্যামিনার ফ্লু অকেজো হয়ে যায়। সরকারের কাছে বর্তমানে এ যন্ত্রটি মজুত নেই। বিদেশ হতে আসতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। তাই বিজিএমইএ-এর কাছে অনুরোধ জানালে তারা এ বায়োসেপ্টিক কেবিনেটটি খুব শিগিগরই কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবদুল কাদের জানান, একটি পিসিআর মেশিনের তিনটি পার্ট থাকে। এর মধ্যে কয়েকদিন ধরেই বায়োসেপ্টিক কেবিনেটে ল্যামিনার ফ্লু যন্ত্রটিতে সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জানানো হলে একটি বিশেষজ্ঞ দল গত ২৭ জুন ল্যাব পরিদর্শন করে হাসপাতালে এসে বায়োসেপ্টিক কেবিনেট পরিবর্তনের পরামর্শ দেয়। পরদিন সোমবার সকালে নমুনা পরীক্ষার কাজ চলাকালে মেশিনটি পুরোপুরি বিকল হয়ে পড়ে। আগামী আগস্টের আগে মেশিন চালুর সম্ভাবনা নেই জানানো হয়েছে অধিদপ্তর থেকে।
তিনি আরো জানান, ল্যাবে বিভিন্ন শিফটে ছয় জন চিকিত্সক, সাত জন টেকনিশিয়ান এবং সাত জন কর্মচারী কাজ করেন। ল্যাবটিতে ২৪ ঘণ্টায় ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষা করা যায়। ল্যাবে কাজ করার সময় ডাক্তার-টেকনেশিয়ান ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী যাতে সংক্রমিত না হয়ে পড়ে তা রোধে কাজ করে বায়োসেপ্টিক কেবিনেট। আগামী আগস্ট মাসে আরো একটি নতুন পিসিআর মেশিন যুক্ত হবে তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজে। এতে গাজীপুরে প্রতিদিন ৩৭০ জন রোগীর করোনার নমুনা পরীক্ষা সম্ভব হবে।
গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. খায়রুজ্জামান জানান, গাজীপুরে প্রতিদিন গড়ে ৪০০টির মতো নমুনা পরীক্ষা হয়। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেশিন নষ্ট হওয়ায় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল ল্যাব ও ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে।
