জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, করোনা মহামারিসহ কোনো সংকটের কথা গোপন করা বা চেপে যাওয়া ঠিক নয়। যথাসময়ে সমস্যা-সংকট সম্পর্কে অবহিত হওয়া গেলে তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। আমরা বর্তমানে যে বৈশ্বিক মহামারির কবলে রয়েছি তা প্রতিরোধ করতে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে সমানভাবে সক্রিয় ও প্রস্তুত থাকতে হবে। স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মানুষকে স্বাস্থ্যসচেতন করতে ব্যাপকভাবে দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হতে হবে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল রবিবার পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া এবং কাউখালী ও ইন্দুরকানী উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত করোনা প্রতিরোধে পৃথক দুইটি আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে আরো বলেন, গত বছর যখন প্রথম বিশ্বে করোনা দেখা দিয়েছিল তখন উন্নত দেশগুলোর ধারণা ছিল অবকাঠামোগত দুর্বলতার জন্য তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে সংকটজনক অবস্থায় পড়বে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে করোনার প্রথম ঢেউ আমরা অনেকাংশে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। বর্তমান অবস্থা বেশ সংকটজনক বলে সরকার করোনা প্রতিরোধে দেশব্যাপী স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়ন করতে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে। জনপ্রতিনিধিদের সবক্ষেত্রে অধিকতর ভূমিকা গ্রহণ করা আবশ্যক। বিশেষত ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ তৃণমূল পর্যায়ে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, পাড়ায় পাড়ায় মসজিদের মাইকে প্রচার করাসহ মানুষকে অবহিত করার ব্যবস্থা নিয়ে করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যসচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে আমাদের আত্মবিশ্বাস রয়েছে, ইমানের জোর আছে এবং আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। পাশাপাশি ভাণ্ডারিয়াসহ এ অঞ্চলের যে কল্যাণ মানুষের প্রয়োজনে করে যাচ্ছি সেখানে আমার সহযোগীরা একটি সম্মিলিত নেতৃত্বের বলয়ে ঐক্যবদ্ধ।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বাংলাদেশের যেসব পেশা মহত্ত্বের মাপকাঠিতে প্রথম সারিতে রয়েছে, তার মধ্যে চিকিত্সা অন্যতম। যারা এ পেশায় আসেন তারা জেনেশুনেই মানুষের সেবায় ব্রতী হন। করোনাকালে সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে চিকিত্সকরা ত্যাগ ও ঝুঁকির মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। ভাণ্ডারিয়ার মতো জায়গায় হাসপাতালে ডাক্তাররা এসে নানা কারণে অন্যত্র চলে যান। দেশের অন্যান্য উপজেলার চেয়ে ভাণ্ডারিয়া সার্বিক বিচারে অনেক সুবিধাবহুল স্টেশন হলেও এখানকার হাসপাতাল থেকে ডাক্তারদের বদলি হয়ে যাওয়ার প্রবণতা মেটেই কাম্য নয়। পেশা হিসেবে মানবসেবার এ ক্ষেত্রটি যদি তাদের দ্বারা অবহেলিত হয়, তাহলে সেটি মানুষের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল দুপুরে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উক্ত উপজেলার হাসপাতাল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও চিকিত্সাসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় তাকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা কোভিড-১৯ পরিস্থিতি, হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা, চিকিত্সকসহ জনবলের অভাব, অচিরেই হাসপাতালের ১০০ শয্যার নতুন ভবনে অবকাঠামোগত স্থানান্তরসহ বিভিন্ন বিষয়ে অবহিত করা হয়।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সীমা রানী ধরের সঞ্চালনায় এ আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ননী গোপাল রায়, উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম ও ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফায়জুর রশীদ খসরু জোমাদ্দার, জাতীয় পার্টি-জেপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুমুর রহমান বিশ্বাস, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ সিকদার, গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান চৌধুরী, ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খান এনামুল কবির পান্না, ইকড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির, তেলিখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. শামসুদ্দিন, নদমূলার নবনির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন আরিফ প্রমুখ।
রাতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপির ভাণ্ডারিয়ার বাসভবনে পিরোজপুর-২ আসনভুক্ত কাউখালী ও ইন্দুরকানী উপজেলার হাসপাতাল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও চিকিত্সাসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও দুইটি কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সভাপতিত্ব করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কাউখালীর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু সাঈদ মিঞা মনু, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. খালেদা খাতুন রেখা, ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুসাইন মোহাম্মদ আল মুজাহিদ, কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৈয়বুর রহমান, ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান দিলরুবা মিলন, ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির, কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বনি আমিন, কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান পল্টন, ইন্দুরকানী উপজেলা জাতীয় পার্টি-জেপির সদস্য সচিব মো. শাহীন হাওলাদার, ইন্দুরকানীর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ হাওলাদার, কাউখালীর বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন তালুকদার, সমাজসেবী আব্দুল লতিফ খসরু, আওয়ামী লীগ নেতা সুনীল কুণ্ডু প্রমুখ।
