প্রতিহিংসায় খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে দিচ্ছে না সরকার ------------মির্জা ফখরুল

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২১, ২৩:০৫

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। আইনগত কোনো ধরনের বাধা না থাকলেও সরকার উনাকে চিকিত্সা নিতে বিদেশে যেতে দিচ্ছে না। গতকাল রবিবার দুপুরে দলের পক্ষ থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও আলোচ্য বিষয় তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলন ডাকে দলটি। বিএনপি মহাসচিব বলেন, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জাতীয় সংসদে চেয়ারপারসনের বিদেশে চিকিত্সা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করা হয়। স্থায়ী কমিটি মনে করে শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে সাজানো মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। যেখানে খুনের মামলায়, ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আসামি অথবা আজীবন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুক্তি নিয়ে বিদেশে চলে যেতে পারে, সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মানবিক কারণে  চিকিত্সার জন্য দেশের বাইরে চিকিত্সার সুযোগ দেওয়া যাবে না—এটা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এদিকে গতকাল সকালে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন একাংশের উদ্যোগে ‘মহান স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী: গণমাধ্যমের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, অনেক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা হয়েছে। সরকারের দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে ৪২ জন সাংবাদিক খুন হয়েছে বর্তমান সরকারের আমলে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে ‘নির্লজ্জ’ হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী কি নির্লজ্জ একজন ব্যক্তি! পার্লামেন্টে তার বিরুদ্ধে তার দলের লোকেরা কথা বলছেন, বিরোধী দলের কয়েক জন কথা বলেছেন, সারা দেশের মানুষ কথা বলছেন। তারপরেও পদত্যাগ করছেন না এবং লজ্জা-শরম কোনো জিনিস আছে বলে মনে হয় না।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের এ অংশের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, বর্তমান সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন একাংশের আবদুল হাই শিকদার, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মোরসালিন নোমানী প্রমুখ বক্তব্য দেন।