দেশে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে করোনা। বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যু। সারা দেশে কঠোর লকডাউনের মধ্যেও এক দিনে মৃত্যুর সংখ্যায় নতুন রেকর্ড হয়েছে। এই প্রথম এক দিনে মৃত্যু ছাড়িয়েছে দেড় শ। গতকাল রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ১৫৩ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা ১৫ হাজারের দুঃখজনক মাইলফলক পেরিয়ে গেল। এ নিয়ে টানা অষ্টম দিনের মতো দেশে এক দিনে করোনায় আক্রান্ত শতাধিক ব্যক্তি মারা গেছেন। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৫ হাজার ৬৫ জনে। ১ জুলাই ১৪৩ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এটি ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। গত এক দিনে শনাক্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৬৬১ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৯১৭ জনে।
করোনা ভাইরাসের ডেলটা ধরনের ব্যাপক বিস্তারের মধ্যে গত ২৬ জুন দেশে কোভিড আক্রান্তদের মধ্যে মৃতের সংখ্যা ১৪ হাজার অতিক্রম করে। সেই তালিকায় নতুন ১ হাজার নাম যোগ হতে সময় লাগল মাত্র আট দিন। গতবছর মার্চে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর এক দিনে এরচেয়ে বেশি মৃত্যু আর কখনো দেখতে হয়নি বাংলাদেশকে। দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা গত ২৭ জুন থেকেই ১০০-র ওপরে থাকছিল প্রতিদিন। এর মধ্যে জুলাইয়ের প্রথম দিন ১৪৩ জনের রেকর্ড মৃত্যুর খবর আসে। কিন্তু সেই রেকর্ড তিন দিনও টিকল না। এদিকে মাঝে এক দিন কম থাকলেও দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আবারও সাড়ে ৮ হাজারের ঘর ছাড়িয়েছে। গত এক দিনে সারাদেশে ৮ হাজার ৬৬১ জন নতুন রোগী শনাক্তের তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাতে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৯১৭ জনে। করোনার ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের বিস্তারের মধ্যে গত ২৯ জুন ৯ লাখ পেরিয়ে যায় আক্রান্তের সংখ্যা। ৩০ জুন এক দিনে রেকর্ড ৮ হাজার ৮২২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়।
কেবল ঢাকা বিভাগেই গত এক দিনে ৪ হাজার ২০৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা দিনের মোট শনাক্তের প্রায় অর্ধেক। খুলনা বিভাগেও হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর যে ১৫৩ জন গত এক দিনে মারা গেছেন, তাদের ৫১ জনই ছিলেন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা। ঢাকায় মারা গেছেন ৪৬ জন। সরকারি হিসাবে গত এক দিনে আরো ৪ হাজার ৬৯৮ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৮৯৭ জন।
এদিকে বর্তমানে অক্সিজেনের উত্পাদন ও সরবরাহে কোনো সংকট নেই। তবে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে সেটা চ্যালেঞ্জ হতে পারে। গতকাল রবিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত সংবাদ বুলেটিনে এসব কথা বলা হয়। মহামারির পরিস্থিতি বর্ণনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, বছরের ২৫তম সপ্তাহের তুলনায় ২৬তম সপ্তাহে রোগী বেড়েছে ৫১ শতাংশ। একই সময়ে মৃত্যু বেড়েছে ৪৬ শতাংশ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অক্সিজেন সংকটে রোগীর মৃত্যুর যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে তা সাংবাদিকদের জানানো হবে।
দেশে গত এপ্রিলে ডেলটা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ভারতের ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের শনাক্তের হার বৃদ্ধি পেতে থাকে। দেশে এই ভ্যারিয়েন্ট মে মাসে ৪৫ শতাংশ ও জুন মাসে ৭৮ শতাংশ নমুনায় শনাক্ত হয়। বর্তমানে দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণে ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের সুস্পষ্ট প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। রবিবার প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
