নামেই হাসপাতাল নেই স্বাস্থ্যসেবা

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২১, ২৩:১১

সাধারণ রোগের প্রাথমিক চিকিত্সার জন্য সাধারণ মানুষকে যাতে কোথাও যেতে না হয় সেজন্য ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব ক্লিনিকে ৩০/৪০ ধরনের ওষুধ সরকার বিনামূল্যে দিচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে রয়েছে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র। এখান থেকে দেওয়া হয় একই ধরনের ওষুধ। উপজেলায় রয়েছে ৫০ বেডের হাসপাতাল। এখানে অপারেশন, পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ সকল ব্যবস্থা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা থেকে শহর, শহর থেকে রাজধানী পর্যন্ত বিশাল অবকাঠামো রয়েছে স্বাস্থ্য সেবার জন্য। কিন্তু সঠিক মনিটরিংয়ের অভাব, জনবলের সংকটসহ নানা অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে রোগীরা চিকিত্সা সেবা পাচ্ছেন না। এসব হাসপাতালের চিকিত্সা সামগ্রী ও জনবল সংকট এবং বিভিন্ন বিষয়ে সমস্যা নিরসনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সিভিল সার্জনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু কোন চিঠিরই জবাব দেওয়া হয় না। এমনকি এইসব সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। কোনো কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন এ ধরনের সমস্যা সমাধানে প্রতি মাসে চিঠি পাঠালেও তার কোনো উত্তর পাননি তারা। এই অবস্থা নিরসন না করায় উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত বেহাল চিত্র বেরিয়ে এসেছে। করোনা চিকিত্সায় উপজেলা পর্যায়ে ধস নেমেছে। অক্সিজেন সংকটসহ চিকিত্সা সেবার নানা সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে। সেখানে রোগীরা চিকিত্সা না পেয়ে শহরমুখী হচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছার আগেই তারা রাস্তায় মারা যাচ্ছে।

আমাদের আটটি উপজেলার প্রতিনিধিরা সরেজমিনে গিয়ে হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার করুণ চিত্র দেখতে পেয়েছেন।

নলছিটি (ঝালকাঠি) সংবাদদাতা জানান, করোনা চিকিত্সা সেবার কোন ব্যবস্থা নাই। ফলে রোগীরা বরিশাল ও ঢাকায় যায়। ৩২ জন চিকিত্সকের স্থলে মাত্র ১৮ জন এবং অন্যান্য জনবল ২৫ জনের স্থলে মাত্র ১০ জন রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিউলী পারভীন জানান, জনবল সংকটের কারণে জরুরি প্রসূতি সেবাসহ সকল ধরনের অপারেশন বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে শীর্ষ কর্তৃপক্ষকে লিখিত জানানো হয়েছে।

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, এই উপজেলায় জনবলসহ অন্যান্য চিকিত্সা সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। এই অব্যবস্থাপনার কারনে রোগীরা সুচিকিত্সা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা জানান, এই হাসপাতালে ২১ জন চিকিত্সকের স্থানে মাত্র ১৩ জন রয়েছেন। সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ অন্যান্য কর্মচারীর সংকট রয়েছে। এ কারণে প্যাথলজি পরীক্ষা নিয়েও সমস্যা হচ্ছে। এখনো করোনা রোগীদের জন্য আইসোলেশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। রোগীদের আইসোলেশনের জন্য রাখা হয় বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে। কিন্তু দেখভাল করার মত লোক নাই।

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার বন্ধ। এক্সরে মেশিন নষ্ট। আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন তিন বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদ পারভেজ বলেন, এই উপজেলায় হেলথ কমপ্লেক্সে ১৭৬ জনের মধ্যে ১৪৪ জন কর্মরত আছে। শিশু, মেডিসিন, গাইনি, সার্জারি, অ্যানেশথেশিয়া ও অর্থোপেডিকসহ ৬জন কনসালটেন্ট নাই। এখানে অন্যান্য জনবলেরও সংকট রয়েছে।

তানোর (রাজশা্হী) সংবাদদাতা জানান, এখানে ২৯ জন চিকিত্সকের মধ্যে মাত্র ১২ জন কর্মরত আছে। অন্যান্য জনবলেরও সংকট রয়েছে। ফলে জোড়াতালি দিয়ে হাসপাতালের চিকিত্সা সেবা চালাতে হচ্ছে।

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, ২১ জন চিকিত্সকের স্থানে মাত্র ৮ জন কর্মরত আছেন। এছাড়াও অন্যান্য ৫৭টি পদ শূন্য রয়েছে। অপারেশন থিয়েটার বন্ধ। নেই এক্সরে করার সুযোগ।

জুড়ী  (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, এখানে ৪ জন কনসালটেন্টের মধ্যে একজন রয়েছে। মেডিকেল অফিসার রয়েছে মাত্র ২ জন। নার্স ১৪ জনের মধ্যে মাত্র ৪ জন। অর্থাত্ জনবল সংকটসহ অন্যান্য অব্যবস্থাপনায় চিকিত্সা সেবা ব্যহত হচ্ছে।

মধুখালী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, এখানে ২৪ জন চিকিত্সকের মাত্র ৮ জন রয়েছেন। অন্যান্য জনবলের সংকটের কারণে চিকিত্সা সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। কোনরকমে জোড়াতালি দিয়ে হাসপাতালটি চলছে। এ ব্যাপারে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ সকল সমস্যার বিষয়ে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব আকারে প্রেরণ করা হয়েছে।