হরিণাকুণ্ডুতে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীকে কেড়ে নিল করোনা

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২১, ২৩:১২

ঝিনাইদহের হরিণাকু্লতে মহামারী করোনা ভাইরাস মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে কেড়ে নিল স্বামী ও স্ত্রীকে। মহেশপুরে এক সপ্তাহের মধ্যে ভাই-বোন-ভাবীসহ একই পরিবারের চার জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে খুলনা বিভাগে রেকর্ড ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে । অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর: 

হরিণাকু্ল ও মহেশপুর (ঝিনাইদহ) : হরিণাকু্লুতে করোনার উপসর্গ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়। শনিবার সন্ধ্যায় করোনা উপসর্গ নিয়ে তৈলটুপি গ্রামে নিজ বাড়িতে মারা যান হোসনে আরা (৫০)। এর তিন ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে মারা যান তার স্বামী নুরুদ্দিন বিশ্বাস (৫৭)। হরিণাকুন্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জামিনুর রশিদ জানান, উপজেলায়  ৬ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে দুইজন করোনায় আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও চার জন।

এক সপ্তাহের মধ্যে মহেশপুরে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার ভোরে করোনার উপসর্গ নিয়ে একতাপুর গ্রামের মৃত হারান বিশ্বাসের ছেলে আব্দার বিশ্বাস (৬৮) মারা যান। এর আগে শনিবার রাতে তার বোন লাভলী বেগম (৫০) ও ভাবী আনোয়ারা বেগমের (৬৬) মৃত্যু হয়। এক সপ্তাহ আগে মারা যান আব্দারের ভাই চুনু বিশ্বাস (৬৫)। এখন গ্রামটিতে চলছে শোকের মাতম। অন্যদিকে গত তিন সপ্তাহের মধ্যে মহেশপুরে আরো ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্বাশতী শীল জানান, যারা মারা গেছে ও আক্রান্ত হয়েছে তাদের বাড়িতে লাল পতাকা টানিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। 

বাগেরহাট : রবিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ১৫৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। জেলায় করোনা সংক্রামণ হার ৪৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। একই সময়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

যশোরে রেকর্ড ১৭ জনের মৃত্যু

যশোর অফিস: করোনায় আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে রেকর্ড ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে শনিবার আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে মারা গিয়েছিল ১৪ জন। এছাড়াও এই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৯৫ জনের। ৫৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্তের এই সংখ্যা পাওয়া গেছে। এছাড়া যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাপসাতালেও বেড়েছে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গের রোগীর চাপ। ১৪০টি শয্যার বিপরীতে রোগী ভর্তি রয়েছেন ২১৬ জন। 

খুলনায় সর্বোচ্চ ৪৬ জনের মৃত্যু

খুলনা অফিস: খুলনা বিভাগে রবিবার পর্যন্ত  করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সর্বোচ্চ ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩০৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। গতকাল দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার করোনায় খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

কুষ্টিয়া: ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে বেডের থেকে অধিক রোগীর চাপে ডাক্তার-নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বেড সংকটে ভর্তি বাড়তি রোগীর ঠাঁই মিলেছে ওয়ার্ডের মেঝে ও বারান্দায়। এদিকে হাসপাতালে উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন স্বল্পতায় সংকটাপন্ন রোগীর মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না। গত তিন সপ্তাহ ধরে প্রতি ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে গড়ে ১০/১২ জন রোগী হাসপাতালে মারা যাচ্ছে।

হাসপাতালের আরএমও ডা. তাপস কুমার সরকার জানান, জেলায় শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৬৯ ভাগ। হাসপাতালে ১০টি বেডের সাথে সংযুক্ত সেন্ট্রাল অক্স্রিজেন ব্যবস্থাসহ ৫৫০টি অক্স্রিজেন সিলিন্ডারেই চলছে করোনা রোগীর চিকিত্সা। এ জেনারেল হাসপাতালে সংকাটপন্ন রোগীর জীবন রক্ষা ও চিকিত্সায় নেই আইসিইউ। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ জন করোনা রোগী ও উপসর্গে ছয়জনসহ মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলায় করোনায় মৃত্যুর এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড ।

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, শনিবার রাজশাহীর দুই ল্যাবে দুই জেলার ৫৬২ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ হয়েছে ১৮৬ জনের। রাজশাহীতে শনাক্তের হার ৩৩.৮৩%, চাঁপাইনবাবগঞ্জে শনাক্তের হার ২৯.৪৭%।

এদিকে, রাজশাহী সদর হাসপাতাল ‘করোনা ডেডিকেটেড’ হিসেবে চালুর প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানীকে অবকাঠামোগত কাজ করতে বলা হয়েছে। গতকাল কোভিড-১৯ বিষয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে পরিচালক সংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল করতে হলে সেন্টাল অক্সিজেন সরবরাহ ও ১৫টি আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা থাকবে। ইতোমধ্যে সদর হাসপাতালের অবকাঠামোগত সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে সদর হাসপাতালটি ব্যবহারের উপযোগী করা যাবে।

স্টাফ রির্পোটার, রংপুর: রবিবার সকাল পর্যন্ত বিভাগে ৫৫৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ৬ জেলায় রের্কড ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে দিনাজপুরে ৪ জন, ঠাকুরগাঁয় ৭ জন, গাইবান্ধায় ১ জন, লালমনিরহাটে ১ জন, কুড়িগ্রামে ১ জন ও পঞ্চগড়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ১৪৬  জন।

বরিশাল অফিস: রবিবার সকাল পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২১০ জন রোগী চিকিত্সাধীন ছিল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে। এ সময় হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার রাতের রিপোর্টে করোনা শনাক্তের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৪ ভাগ। ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১১জনের করোনা শনাক্ত হয়। এই শনাক্তের হার গত বছর মার্চে করোনা ওয়ার্ড প্রতিষ্ঠার পর সর্বাধিক সংখ্যক বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম।