রংপুরের ঘরে ঘরে সর্দি কাশি জ্বর

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২১, ২৩:১২

রংপুরের আট উপজেলায় দিন দিন করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বর্তমানে ঘরে ঘরে সর্দি কাঁশি জ্বর। ফার্মেসিতে মিলছে না প্যারাসিটেমল-জাতীয় ওষুধ। এ বিভাগে সংক্রমণ বৃদ্ধির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রংপুর জেলা। সংক্রমণের হার ৪০ শতাংশের ওপরে। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোতে বেড়েই চলেছে রোগীর চাপ, সেই সঙ্গে বাড়ছে প্রয়োজনীয় ওষুধের চাহিদা। করোনা আক্রান্তের পাশাপাশি সাধারণ রোগীর চাহিদার বিপরীতে নাপা, নাপা এক্সট্রা, নাপা এক্সটেন্ড, এইচ প্লাস, নাপা সিরাপসহ প্যারাসিটামল জাতীয় কয়েকটি ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে ফার্মেসিগুলোতে। চার দিকে করোনা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা যখন বাড়ছে তখন প্যারাসিটামল-জাতীয় এই ওষুধগুলোর সরবরাহ না থাকায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে ।

গতকাল রবিবার নগরীর দর্শনা এলাকার হাসান মিয়া বেশ কয়েকটি ফার্মেসি ঘুরেও জ্বরের জন্য এইচ প্লাস ওষুধটি খুঁজে পাননি। নগরীর মেডিক্যাল মোড় এলাকায় চাহিদাপত্র নিয়ে দোকানে দোকানে ঘুরে ওষুধ না পাওয়া রুমি বেগম জানান, সাত বছরের ছেলের জ্বরের জন্য ওষুধ নিতে এসেছিলাম। কিন্তু বড় বড় কয়েকটি ফার্মেসি ঘুরেও পর্যাপ্ত ওষুধ মেলেনি। নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়ের একটি ফার্মেসিতে জ্বরের ওষুধ খুঁজতে আসা কলেজশিক্ষক আমিনুল ইসলাম জুয়েল জানান, জাহাজ কোম্পানি ও এর আশপাশের বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে এক পাতা নাপা ওষুধ সংগ্রহ করেছি, তবুও বেশি দামে।

লালবাগ বাজারের সিয়াস ফার্মেসির মালিক সিয়াম হোসেন  বলেন, জ্বরের ওষুধ এইচ, এইচ প্লাস, এইচ এক্স আর ট্যাবলেট, ফাস্ট, ফাস্ট এক্স আর ওষুধেরও সংকট আছে। কোম্পানি যে পরিমাণ ওষুধ সরবরাহ করছে তা চাহিদার তুলনায় একেবারে অপ্রতুল। তিনি আরো বলেন, গত সাত থেকে আট দিন ধরে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই কোম্পানিগুলোকে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সরবরাহ না থাকায় আমাদেরও কিছু করার থাকছে না।

পাশের ফার্মেসির জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, হঠাত্ করে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে জ্বরের ওষুধের চাহিদা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। এ সময়ে নাপা, এইচ ট্যাবলেট ও সিরাপের সরবরাহ না থাকলে ভোগান্তি আরো বাড়বে।

জনস্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলন, বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বেলাল আহম্মেদ বলেন, এই জাতীয় ওষুধ সংকট হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না। এটি সংশ্লিষ্ট ওষুধ কোম্পানির পরিকল্পিত কাজ কি না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তা তদন্ত করে দেখা উচিত।

রংপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহামুদুল ইসলাম মৃধা বলেন, কোনো ফার্মেসি কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে এবং বেশি দামে বিক্রির প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায় বলেন, বাজারে প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধের সংকট থাকার কথা নয়। তবুও  কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।