রাজধানীর মগবাজারে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত রাখী নীড়ে সরবরাহ লাইন থেকে গ্যাস বের হওয়ার খবর পেয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঐ ভবন থেকে গ্যাস বের হওয়ার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে তারা তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানায়। তিতাস গ্যাসের ম্যানেজার (দক্ষিণ) সাবিল আউয়াল বলেন, ঐ ভবন থেকে গ্যাস বের হওয়ার পেয়ে আমাদের একটি টিম সেখানে গেছে। তিনি বলেন, সেখানে বৈধ কোনো গ্যাস লাইন থাকার কথা নয়। যে লাইনটি ঐ ভবনে পাওয়া গেছে সেটা কোথায় গেছে, কারা ব্যবহার করত সেসব বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
তবে ঐ ভবনের পাশে একটি গ্যাস লাইনের রাইজার পাওয়া গেছে, যেটা পাশের আরেকটি ভবনের রাইজার বলে জানান সাবিল আউয়াল। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঐ ভবনে তাদের কাজের জন্য আশপাশের বাড়ির গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা হয়নি। ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ভেতরে একটি গ্যাস লাইনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সেখান থেকে গ্যাস বের হচ্ছে খবর পেয়ে আমাদের টিম সেখানে গেছে। কোনো দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্যই তাদের পাঠানো হয়েছে।
গত ২৭ জুন মগবাজার ওয়্যারলেস গেটের কাছে তিন তলা ঐ ভবনে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটলে ১১ জনের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিস বলেছে, তিন তলা ঐ ভবনে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছে। তবে কেন, কীভাবে ঐ বিস্ফোরণ ঘটল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঐ ঘটনায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ চারটি সংস্থা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কোনো তদন্ত কমিটিই এখনো প্রতিবেদন দেয়নি। বিস্ফোরণের ঘটনায় ২৯ জুন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। ভবন মালিকের সার্বিক অব্যবস্থাপনা, অতি পুরোনো বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন এবং ত্রুটিপূর্ণ গ্যাস ব্যবস্থাপনার কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
