নতুন সড়কে ভাগ্য ফেরানোর আশা দেখছেন পার্বত্যবাসী

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২১, ১৩:০০

পার্বত্য চট্টগ্রামের বহু প্রত্যাশিত জালিয়াপাড়া-সিন্দুকছড়ি-মহালছড়ির সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০ ইঞ্জিনিয়ার্স কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ান। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাস আগেই সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। ইতিমধ্যে যান চলাচলও শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ১৫ কিলোমিটার সড়ক ছাড়াও ২৪ কিলোমিটার সাইড ড্রেন, ২৮ মিটার কালভার্ট, ৪১০ মিটার গ্র্যাভিটি ওয়াল, ৬৩০ মিটার রিটেইনিং ওয়াল এবং ৮০০ মিটার প্যালাসাইডিং নির্মাণ করা হয়েছে। সড়কটি নির্মাণের ফলে ঢাকা থেকে সড়কপথে রাঙামাটির দূরত্ব কমবে ৬৮ কিলোমিটার। আগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে রাঙামাটি যেতে হতো। এতে সময় লাগতো ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা। নতুন সড়ক দিয়ে ঢাকা থেকে রাঙামাটি গেলে অন্তত তিন ঘণ্টা সময় বাঁচবে।

No description available.

এছাড়া খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির মধ্যে আন্তঃআঞ্চলিক যোগাযোগের সময় ও দূরত্ব অনেকাংশে কমে যাবে। স্থানীয়রা জানান, নতুন সড়কটি নির্মাণের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে উৎপাদিত পণ্য পরিবহণ ও বাজারজাতকরণ দ্রুততর হবে এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশ হবে। এর পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তা কার্যক্রম ও শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এই সড়কটি। দৃষ্টিনন্দন সড়কটি দেখার জন্য প্রতিদিন অসংখ্য ভ্রমণ পিপাসু মানুষ সেখানে যাচ্ছেন।

২০ ইসিবি অধিনায়ক ও প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মো. আমজাদ হোসেন বলেন, জালিয়াপাড়া-সিন্দুকছড়ি-মহালছড়ি সড়কটি পার্বত্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। এতদিন রাঙামাটি থেকে কেউ ঢাকা যেতে চাইলে তাকে চট্টগ্রাম হয়ে ঘুরে যেতে হতো। কিন্তু এখন তিনি অনেক কম সময়ে ঢাকায় যেতে পারবেন। দৃষ্টিনন্দন সড়কটি নির্মাণের ফলে যাতায়াত ব্যবস্থা যেমন উন্নত হয়েছে তেমনি এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান পরিবর্তনেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

মহালছড়ি উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ধলাচান মারমা ইত্তেফাককে বলেন, মহালছড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল খুবই কষ্টের। মানুষ কাজের জন্য পায়ে হেঁটে মাইলের পর মাইল যেতো। সেনাবাহিনী আমাদের নতুন একটি রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সবক্ষেত্রেই এলাকাবাসীর সুবিধা হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. আমীর হোসেন বলেন, ভালো রাস্তা না থাকায় আমাদের এলাকায় যেসব ফল ও ফসল হতো তা ঢাকা বা চট্টগ্রাম শহরে নিতে পারতাম না। রাস্তায় থাকতেই পচে যেতো। এখন নতুন রাস্তা হওয়ায় আমাদের ব্যবসার উন্নতি হবে। আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। মহালছড়ি কলেজের শিক্ষার্থী তাতুমনি ত্রিপুরা বলেন, নতুন রাস্তা হওয়ায় আমরা গাড়িতে করে কলেজে যেতে পারবো। কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে পারবো।

No description available.

এদিকে, নতুন সড়ক নির্মাণের ফলে জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সড়কের আশেপাশের জায়গা দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, জমি দখলের নেপথ্যে রয়েছে আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ। সম্প্রতি ইউপিডিএফ সমর্থক সনেরঞ্জন ত্রিপুরা পঙ্খীমুড়া ধমনীঘাট এলাকায় সরকারি জমিতে বাগান ও ঘরবাড়ি নির্মাণ করে। সেনাবাহিনী ওই অবৈধ স্থাপনা ভেঙে সেখানে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছে। এ ব্যাপারে সনেরঞ্জন ত্রিপুরা সাংবাদিকদের বলেন, ইউপিডিএফ এর ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ কর্মীরা আমাকে সরকারি খাস জমিতে একটি ঘর তুলতে বাধ্য করেন। এদিকে, সেখানে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করায় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ এনে সম্প্রতি খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরাম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন কারবারি জানান, মহালছড়ি-সিন্দুকছড়ি সড়কের কারণে এলাকার চেহারাই পাল্টে গেছে। যার ফলে সরকারি খাস জমির ওপর ইউপিডিএফ-এর দৃষ্টি পড়েছে। সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন জায়গায় ছোট ছোট বাঁশের ঘর নির্মাণ করে সেটি আবার ভেঙে দিয়ে সেনাবাহিনীকে দোষারোপ করে আসছে। ইউপিডিএফ-এর এই নোংরা রাজনীতি নতুন কিছু নয়।

ইত্তেফাক/এমআর