গৌরবের ৬৯ বছরে পদার্পণ করেছে প্রাচ্যের ক্যামব্রিজখ্যাত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামসহ অসংখ্য আন্দোলনে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির। ১৯৬৯-এর গণ অভ্যুত্থান চলাকালীন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্কালীন প্রক্টর ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মুহাম্মদ শামসুজ্জোহা। যিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম শহিদ বুদ্ধিজীবী। তার এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়েই সারা দেশে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম বেগবান হয়ে ওঠে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। এভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। শিক্ষা, গবেষণার পাশাপাশি মুক্তবুদ্ধিচর্চা এবং সংস্কৃতির বিকাশে এ বিশ্ববিদ্যালয় তার সূচনালগ্ন থেকে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করে আসছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এর সুখ্যাতি রয়েছে বিভিন্নভাবে। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আলোকে বিশ্বের উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-গবেষণার মানোন্নয়ন যেমন চলছে, ঠিক তেমনই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অনেক শিক্ষার্থী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন। অনেক আন্তর্জাতিক মানের গবেষক রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও মিলেছে বহুবার। ২০১৯ সালে বিজ্ঞান গবেষণার ভিত্তিতে ‘সিমাগো স্কপাসের’ জরিপে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম স্থান দখল করেছিল। এভাবে বহু ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টি তার সক্ষমতা প্রকাশ করে চলছে।
বাংলাদেশ তথা উত্তরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পশ্চাত্পদতা কাটিয়ে আধুনিক জ্ঞানবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত করার পেছনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য। অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানের চ্যালেঞ্জগুলো উত্তরণ করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আলোকিত করবে দেশ ও জাতিকে। জন্মদিনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে রইল সেই প্রত্যাশা ও শুভকামনা।
n লেখক :উপাচার্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
