দুধকুমার নদের ভাঙন-ঝুঁকিতে ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২১, ২১:৩৭

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দুধকুমার নদের ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে এলাকাবাসী, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম উত্কণ্ঠা। সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর পাইকেরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দুধকুমার নদের ভাঙনের তীর থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে রয়েছে। এ ছাড়া হুমকিতে আছে পাইকডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আব্দুল করিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গনাইর কুঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১ নম্বর চর ধাউরারকুঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ চরভূরুঙ্গামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হেলোডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরতিলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু উচ্চবিদ্যালয়।

২ নম্বর পাইকেরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মজিবর রহমান ও অভিভাবক আজিজুল ইসলাম জানান, দুধকুমার নদের ভাঙনের স্থান থেকে মাত্র কয়েক ফুট দূরে এখন বিদ্যালয়টি। কয়েক বছর আগে পাইকেরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিলে বিদ্যালয়টির দ্বিতল ভবন নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ ভবনটি নিলামে বিক্রি করে সরিয়ে নেয়। সেবারের ভাঙনে বিলীন হয় নিলামে বিক্রি হওয়া ভবনের জায়গা। গত বছর আবার ভাঙন দেখা দিলে বিদ্যালয়ের অর্ধেক মাঠ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। সে সময় ভাঙনের তীব্রতা কমে যাওয়ায় সে যাত্রায় বেঁচে গেলেও অবশিষ্ট মাঠ ও বিদ্যালয়ের  ভবনটি এবারের বর্ষায় অক্ষত থাকবে কি না, সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের।

উল্লেখ্য, পাইকেরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এ পর্যন্ত চার বার নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাছিমা খাতুন, মাসুমা খাতুন ও প্রথম শ্রেণির সিমা জানায়, নদী যদি স্কুলটি ভেঙে নিয়ে যায়, তাহলে অনেক দূরের স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। তখন তাদের যাতায়াতে খুব কষ্ট হবে। স্কুলটি যদি নদীতে চলে যায়, তাহলে এলাকার শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে। এ ছাড়া স্কুলটিকে বর্তমান স্থান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিলেও এই এলাকার শিশুদের শিক্ষা অর্জনে সমস্যা হবে এবং অনেক শিক্ষার্থীর ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সামাদ।

অন্যদিকে ঝুঁকির মুখে রয়েছে বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু উচ্চবিদ্যালয়, গনাইরকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের দক্ষিণ চর ভূরুঙ্গামারী, তিলাই ইউনিয়নের চরতিলাই, শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর ধলডাঙ্গা, আন্ধারীঝার ইউনিয়নের ১ নম্বর চরধাউরার কুঠি ও হেলোডাঙ্গা এবং পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা ও আব্দুল করিম  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দক্ষিণ চরভূরুঙ্গামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানা জানান, বিদ্যালয়টি কয়েকবার দুধকুমার নদের ভাঙনের শিকার হয়েছে। এখন যে জায়গায় বিদ্যালয়টি আছে, সেই স্থানও নিরাপদ নয়। ১ নম্বর চর ধাউরারকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম ও পাইকডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দুধকুমার নদ ভাঙছে। ভাঙনের সীমানা থেকে বিদ্যালয় দুটি ২০০ থেকে ৩০০ গজ দূরত্বের মধ্য চলে এসেছে। এ বছর কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হয়তো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করব।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপক কুমার দেব শর্মা বলেন, ‘২ নম্বর পাইকেরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কুড়িগ্রামকে জানানো হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর  ব্যাপারেও ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে শিগগিরই জানানো হবে।’ কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙনের শিকার স্কুলগুলোর ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’