পীরগঞ্জে হস্তান্তরের আগেই ব্রিজে ভাঙন-ফাটল

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২১, ২১:৪৯

রংপুরের পীরগঞ্জে হস্তান্তরের আগেই রায়পুর ইউনিয়নের ধুলগাড়ী গ্রামে আখিরা নদীর মরা খালের ওপরে নির্মিত ব্রিজে ভাঙনের পাশাপাশি ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দরপত্রের মাধ্যমে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৮ ফিট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফিট প্রস্থের ঐ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। চলতি বছরের মার্চ মাসে ব্রিজ নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হলেও সংযোগ সড়কের কাজ বাকি ছিল। গত শুক্রবার ব্রিজের দুই দিকে সংযোগ সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভেকু দিয়ে মাটি ফেলতে থাকে। এ সময়ে গ্রামবাসী ব্রিজের উইং ওয়ালে ভাঙন, গার্ডার, টপ স্লাবসহ কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখতে পেয়ে সংযোগ সড়ক নির্মাণে বাধা দেয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে গত শনিবার ভাঙন ও ফাটলের স্থানে সিমেন্ট ও বালি দিয়ে আড়াল করার চেষ্টা করলে গ্রামবাসীর প্রতিবাদের কারণে তা করতে পারেনি।

ধুলগাড়ী গ্রামে বসবাসরত মিজানুর রহমান, সাজু মিয়া, রুবেল, ফজল, আজিজুল ইসলাম, রাকিব মিয়া, আলম মিয়াসহ অর্ধশতাধিক গ্রামবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে গ্রামবাসী বর্ণিত স্থানে ব্রিজ নির্মাণের দাবি করে আসছিল। কুমারগাড়ী, খষ্টি, আলমপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে এবং ধুলগাড়ী গ্রামের মানুষের শত শত একর জমির ফসল পরিবহনের দুর্ভোগ লাঘবে এই ব্রিজ নির্মাণ জরুরি ছিল। নদীর প্রস্থ অনুযায়ী ৭০/৮০ ফিট ব্রিজ নির্মাণ না করে নদীর মধ্যখানে ৩৮ ফিট দৈর্ঘ্যের ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ অর্ধকিলোমিটার দূরত্বে পূর্ব ও পশ্চিম দিকে দুইটি ব্রিজ রয়েছে যেগুলোর দৈর্ঘ্য ৭০ থেকে ৮০ ফিটের ওপরে। এত ছোট ব্রিজের কারণে নদীর গতিপথসহ সংযোগ সড়কের মেয়াদকাল নিয়ে সমস্যা হতে পারে অভিযোগ করলেও কাজ হয়নি।

স্থানীয় চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান দুলাল চৌধুরী জানান, বর্ষা মৌসুমের আগেই ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য অফিস ও ঠিকাদারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেছি। ঠিকাদার তাজুল ইসলাম জানান, অদক্ষ চালকের কারণে ভেকুর সঙ্গে ব্রিজের ধাক্কা লাগায় এ ভাঙনের ঘটনা ঘটে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, সরেজমিন পরিদর্শনের পর প্রয়োজন বোধে ব্রিজ ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হবে। তিনি আরো জানান, ঠিকাদারকে চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়নি।