মহামারিতে অর্থনীতির স্বস্তি ছিল প্রবাসী আয়

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২১, ২১:৫৯

করোনা ভাইরাসের প্রকোপে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক টানাপড়েন দেখা গেছে। তারপরও স্বস্তিদায়ক অবস্থায় ছিল রেমিট্যান্স আয়। আর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম এ খাতের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতায় যেখানে প্রবাসীদের উপার্জন কমে গিয়েছে। কাজ হারিয়েছেন অনেকে। এতে শ্রমিকদের অনেককে দেশে ফিরে আসতে হয়েছে। আর যারা ফিরতে পারেননি তাদের বেশির ভাগেরই ঘরবন্দি জীবন কাটাতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যেখানে আশঙ্কা করা হয়েছিল রেমিট্যান্স কমে যাবে সেখানে বরং বেড়েছে। সদ্য বিদায়ি অর্থবছরে (২০২০-২০২১) আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরের পুরো সময়ে প্রবাসীরা ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ২ লাখ ১০ হাজার ৬১০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা হিসাবে)। গত বছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১ হাজার ৮২০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। আর এই রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠেছে। গতকাল সোমবার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। দেশের ইতিহাসে এত বেশি রিজার্ভ আর কখনো ছিল না। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিকে অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়াকে নির্দেশ করে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মজুত থাকলে তাকে ঝুঁকিমুক্ত দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়। বাংলাদেশের কাছে এখন যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার মজুত আছে তা দিয়ে ১০ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

এদিকে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে প্রবাসীরা ১৯৪ কোটি ০৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৬ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। গত বছরের জুন মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৩ কোটি ২৬ লাখ ডলার।

প্রসঙ্গত, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়। বৈধ উপায়ে প্রবাসী আয় বাড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে অনুযায়ী, ঐ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠালে প্রতি ১০০ টাকার বিপরীতে ২ টাকা প্রণোদনা পেয়ে আসছেন। এর ফলে করোনার মধ্যেও রেকর্ড গড়ছে রেমিট্যান্স। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে মন্দা কাটাতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ৫ হাজার ডলার বা প্রায় ৫ লাখ টাকা কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া ২ শতাংশ নগদ সহায়তা দিচ্ছে সরকার। যা আগে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছিল। এদিকে গত নভেম্বরে রেমিট্যান্স পাওয়া আরো সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংক রেমিটারের কাগজপত্র নিজ দায়িত্বেই যাচাই করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রণোদনার অর্থ ছাড় করার জন্য রেমিট্যান্স আহরণকারী ব্যাংকের কাছে ‘কনফারমেশন’ পাঠাবে। তার ভিত্তিতে রেমিট্যান্স আহরণকারী ব্যাংক রেমিট্যান্স প্রদানকারী ব্যাংক বরাবর প্রণোদনার টাকা ছাড় করবে বলে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ঘোষণা করেন যে, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসমূহে বিশেষ প্যাকেজ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। আর প্রবাসীদের পাঠানোর রেমিট্যান্সের ওপর এখন যে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে তাও অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী।