অনিয়ম রোধে পরিদর্শনে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২১, ২২:০১

ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। নতুন নতুন উপায়ে অনিয়ম হচ্ছে ব্যাংকগুলোতে। এসব অনিয়ম রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিনিয়ত কাজ করলেও তাতে পুরোপুরি সফলতা পাচ্ছে না। তাই ব্যাংকগুলোতে পরিদর্শন কার্যক্রম বাড়ানোর দিকে মনোযোগ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারই অংশ হিসেবে ব্যাংক তদারকির ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো পুনর্গঠন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক পরিদর্শনের চারটি বিভাগকে ভেঙে আটটি বিভাগ করা হয়েছে। আগে চারটি বিভাগে কাজ করতেন ছয় জন জিএম, এখন আটটি বিভাগে কাজ করবেন আট জন মহাব্যবস্থাপক। এছাড়া অন্যান্য জনবলও বাড়ানো হয়েছে। এসব বিভাগের ব্যাংকগুলো পরিদর্শনের আওতাও আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। গতকাল এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত্র প্রজ্ঞাপন জারি করে সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ৪ মে এ সংক্রান্ত্র দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সার্কুলারে ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগের আটটি বিভাগে যারা মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করবেন তাদের নাম উল্লেখ করা হয়। নতুন এ ব্যবস্থা গত ২৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর বলে উল্লেখ করা হয়।

নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘ব্যাংক পরিদর্শন ও পরিপালন কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বিদ্যমান ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-১, ২, ৩ ও ৪ অবলুপ্ত করে নতুনভাবে ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ-১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭ ও ৮ নামে আটটি বিভাগ গঠন করা হয়েছে। এর কার্যপরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভাগগুলোর কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।’ এর ফলে পরিদর্শন বিভাগের কর্মকর্তারা ব্যাংকগুলো পরিদর্শনের আরো বেশি ক্ষমতা পাবেন।

তদারকির নতুন কাঠামোর বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে অবহিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে উপমহাব্যবস্থাপক, যুগ্ম পরিচালক, উপপরিচালক ও সহকারী পরিচালকের পদ।

সূত্র জানায়, বেশ কয়েক বছর ধরে ব্যাংকিং খাতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা জেঁকে বসেছে। এর মধ্যে হলমার্ক গ্রুপের ৪ হাজার কোটি টাকা, ক্রিসেন্ট গ্রুপের ৫ হাজার কোটি টাকা, এ্যানন টেক্স গ্রুপের সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা, বিসমিল্লাহ গ্রুপের ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, সানমুন স্টার গ্রুপের ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংকে ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে।

এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এরপর থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইনি কাঠামো ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে শুরু করে। এরই অংশ হিসাবে এবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রধান দুটি বিভাগকে আরো শক্তিশালী করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংক তদারকি ও নীতি প্রণয়নে দায়িত্বে রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি)। এ বিভাগের কার্যক্রম দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। একটি অংশ নীতি প্রণয়ন করবে। অপর অংশ তদারকি করবে। আগে পুরো বিভাগের দায়িত্বে একজন মহাব্যবস্থাপক ছিলেন। এখন থাকবেন দুই জন। অন্যান্য জনবলও বাড়ানো হয়েছে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তদারকিতে বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রযুক্তির ব্যবহারও করছে। নতুন কাঠামোতে সংশ্লিস্ট বিভাগগুলোর প্রযুক্তির সক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তদারকির জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগকে পুনর্গঠন করেছে।