১২ সিটি করপোরেশনে মডার্না, জেলা-উপজেলায় সিনোফার্মের টিকা

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২১, ২২:৫৬

দেশ জুড়ে আবার শুরু হচ্ছে গণটিকাদান কর্মসূচি। মডার্না এবং সিনোফার্মের টিকা দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হবে। বন্ধ থাকা নিবন্ধন আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এবারের টিকাদান কর্মসূচিতে মডার্না এবং সিনোফার্ম টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটি। সোমবার কমিটির সদস্য সচিব ডা. শামসুল হক বলেন, রবিবার আমাদের মিটিং হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে জানাচ্ছি। খুব শিগিগরই টিকার জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু হলে নিবন্ধন করে টিকা নেওয়া যাবে।

ডা. শামসুল হক বলেন, কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা কোভ্যাক্স সুবিধায় পাওয়া মডার্নার টিকা দেওয়া হবে দেশের ১২ সিটি করপোরেশন এলাকায়, আর চীন থেকে কেনা সিনোফার্ম দেওয়া হবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে।

তিনি বলেন, গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। কিন্তু মাঝে কিছু দিন টিকা স্বল্পতার কারণে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কিন্তু কয়েক দিন আগে মডার্না ও সিনোফার্মের ৪৫ লাখ টিকা আমাদের হাতে এসেছে। এই টিকা দিয়ে আমরা আবার টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছি।

আমরা চিন্তা করেছি, আগের বারের মতো আবারও উপজেলা পর্যন্ত ভ্যাকসিন কার্যক্রম নিয়ে যাব মন্তব্য করে ডা. শামসুল হক বলেন, হাতে এখন দুই ধরনের ভ্যাকসিন রয়েছে। দেশে কয়েক দিন আগে মডার্না এসেছে ২৫ লাখ এবং সিনোফার্মের এসেছে ২০ লাখ, সঙ্গে আগে এসেছে প্রায় ১১ লাখ ডোজ। সব মিলিয়ে বেশ কিছু টিকা এখন হাতে রয়েছে।

তিনি জানান, মডার্নার ভ্যাকিসন টেম্পারেচার সেনসিটিভ, মাইনাস ২০-এ রাখতে হয়, তাই এ টিকা দেওয়া হবে সিটি করপোরেশন এলাকায়। সিটি করপোরেশন এলাকার আওতায় থাকা সাধারণ মানুষ এই টিকার আওতায় আসবে। আর সিনোফার্মের ভ্যাকসিন রাখা যায় দুই থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াসে। তাই জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া একই জায়গায় যদি দুই ধরনের টিকাদান কর্মসূচি চলে তাহলে হয়তো কিছুটা সমস্যা তৈরি হতে পারে। সঙ্গে তাপমাত্রার একটা বিষয় তো রয়েছেই। সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

৩৫ বছরের বেশি বয়সি সবাই নিবন্ধন করে টিকা নিতে পারবেন জানিয়ে শামসুল হক বলেন, অগ্রাধিকার তালিকায় প্রথমে ১৮ ক্যাটাগরির মানুষ ছিলেন। এরপর সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থী, প্রবাসী শ্রমিক, মেডিক্যাল-নার্সিং শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সিনোফার্মের দ্বিতীয় ধাপে। এবার এ তালিকায় কৃষক, শ্রমিক এবং শিক্ষার্থী—এ তিন ক্যাটাগরির জনগোষ্ঠীর মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। তাই তাদেরও এবার টিকাদান কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। আর কৃষক, শ্রমিকদের তালিকার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হবে। তারা যে তালিকা দেবেন, সে তালিকা অনুযায়ী টিকা দেওয়া হবে।