বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল

করোনা ওয়ার্ডের আইসিইউতে নেই নির্ধারিত প্রশিক্ষিত চিকিত্সক

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২১, ২২:৫৭

দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) করোনা রোগীদের জন্য ৫২৩টি আইসোলেশন বেডের ব্যবস্থা থাকলেও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) রয়েছে ২২টি। করোনা ওয়ার্ডের এই আইসিইউগুলোতে ভেন্টি লেটর মেশিন প্রস্তুত থাকলেও নির্ধারিত প্রশিক্ষিত চিকিত্সক নেই। জনবল সংকটে এই হাসপাতালে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। শেবাচিম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালের শুরুতে আইসিইউ না থাকায় পরবর্তীকালে চিকিত্সক ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগ হয়নি।

১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত শেবাচিম হাসপাতালে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০১৭ সালে ১০ শয্যার আইসিইউ চালু করা হয়। জনবল না থাকায় দুই বছরের মধ্যেই তিন/চার বার আইসিইউর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহূত না হওয়ায় ১০ শয্যার আইসিইউর সবগুলো ভেন্টিলেটরসহ যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে যায়। করোনা শুরুর পর গুরুত্ব অনুধাবন করে হাসপাতালের তত্কালীন পরিচালক সেগুলো মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করেন। পরবর্তীকালে করোনা পরিস্থিতিতে নবনির্মিত করোনা ওয়ার্ডে নতুন করে যুক্ত হয়ে সর্বশেষ মোট ২২টি আইসিইউ বেড প্রস্তুত করা হয়। গত বছর করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর শেবাচিম হাসপাতালের পাঁচ তলা ভবনে চালু করা হয় করোনা ইউনিট। প্রথমে ১০ বেড, এর পরে ১০০ এবং সর্বশেষ গতকাল সোমবার এই শয্যসংখ্যা ৩০০-তে উন্নীত করা হয়।

করোনা সংক্রমণের তৃতীয় ধাপে বরিশাল বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা বিগত দিনগুলোর থেকে অনেক বেশি। শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে সোমবার নতুন ৪৯ জন রোগীসহ ভর্তি রয়েছেন ২২০ জন। হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, চিকিত্সক, নার্স কারো দেখা পাওয়া মুশকিল। সর্বত্র নোংরা পরিবেশ। ওয়ার্ডের যেখানে সেখানে মাস্ক আর হ্যান্ড গ্লোভস পড়ে আছে। বাথরুমের অবস্থা আরো বেহাল। এছাড়া পানি সংকটও রয়েছে। তাই অনেকেই চিকিত্সা না নিয়েই হাসপাতাল ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের মাত্র এক জন চিকিত্সক দিয়ে এবং ৪০ নার্সকে প্রশিক্ষণ দিয়ে করোনা ওয়ার্ডের আইসিইউ সেবা চালু রাখা হয়েছে। তিনি বলেন করোনা ওয়ার্ডের সবগুলো আইসিইউতেই রোগীরা চিকিত্সাধীন রয়েছেন। পরিচালক জানান, অনুমোদিত জনবল কাঠামোতে (অরগানোগ্রাম) আইসিইউতে স্থায়ী জনবল পাওয়া যায়নি। তবে অন্য বিভাগের চিকিত্সকদের দিয়ে আইসিইউ সেবা চালু রাখা হচ্ছে। তিনি জানান এক হাজার বেডের এই হাসপাতালে চিকিত্সকসহ জনবল রয়েছে প্রয়োজনের অর্ধেকেরও কম। এ জনবল দিয়েই করোনা ওয়ার্ডের জন্য ২২টি আইসিইউসহ ৩০০ বেড প্রস্তুত করে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে চিকিত্সাধীন রয়েছে ২২০ জন রোগী। এর অনুকূলে এক জন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ও ৩৯ জন মেডিক্যাল অফিসার এবং ১৫০ জন নার্স দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় কেবলমাত্র করোনা ওয়ার্ডের জন্য ৫০ জন চিকিত্সক এবং ১০০ নার্স চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, করোনা ইউনিটের জন্য কিন্তু এখানে আলাদা কোনো ভবন নেই। আমাদের একটি ভবনকে করোনা ইউনিট করা হয়েছে। ভবনটির কাজ এখনো চলছে। গণপূর্ত বিভাগকে বলা হয়েছে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য। মন্ত্রণালয়ে জনবল চেয়ে বারবার চিঠি দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল ছাড়া এই ইউনিট চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সচেতন নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি কাজী আবুল কালাম আজাদ জানান, বরিশাল বিভাগের জনসংখ্যা বর্তমানে ১ কোটি  ছাড়িয়ে গেছে। অথচ বরিশাল বিভাগের ছয় জেলাসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার একমাত্র ভরসাস্থল বিশেষায়িত এ হাসপাতালটি। তিনি বলেন জনবল সংকটে রোগীরা এ হাসপাতালে কখনোই কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না। বর্তমানে পরিস্থিতিতে এ হাসপাতালে মানবিক বিপর্যয় ঘটছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়ার দাবি জানান তিনি।