কক্সবাজারের রামুতে দেড় শ টাকা চুরির অভিযোগে দুই শিশুকে মুরগির খাঁচায় বন্দি করে ইলেকট্রিক শক ও জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতন করেছেন আওয়ামী লীগের এক নেতা। গত বৃহস্পতিবার রামু উপজেলার ঈদগড় বাজারের একটি মুরগির দোকানে এ ঘটনা ঘটলেও সোমবার একটি ভিডিওর মাধ্যমে তা প্রকাশ পায়।
আওয়ামী লীগের অভিযুক্ত নেতা রিফাত করিম (৩২) ঈদগড় ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মো. শরিফপাড়ার নেজাম উদ্দীনের ছেলে।
নির্যাতনের শিকার দুই শিশু ঈদগড় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. শরিফপাড়া এলাকার প্রতিবন্ধী মো. নুরুল আলম ছেলে সোহেল (১০) ও রশিদ আহমদের ছেলে ইব্রাহিম (১০)। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আইনি সহায়তা পায়নি তারা। যদিও পুলিশের দাবি, মামলা করতে রাজি হচ্ছে না ভিকটিমের পরিবার।
অভিযোগ উঠেছে, মাত্র দেড় শ টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে ঈদগড় ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রিফাত দুই শিশুকে খাঁচায় বন্দি করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেন। এ সময় সোহেল ও ইব্রাহিমের শরীরে ইলেকট্রিক শক ও জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। নির্যাতনের একটি ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
এ বিষয়ে ঈদগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ ভুট্টো জানান, ঈদগড় বাজারে আওয়ামী লীগের নেতা রিফাত করিমের একটা মুরগির দোকান আছে। সেখানে পেটের দায়ে দুবেলা ভাতের বিনিমিয়ে কাজ করে শিশু সোহেল। ঐ দোকান থেকে মাত্র দেড় শ টাকা চুরির অভিযোগে শিশু সোহেল ও তার বন্ধু ইব্রাহিমকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ১০ ঘণ্টা মুরগির খাঁচায় বন্দি রেখে শত শত মানুষের সামনে নির্যাতন করেন রিফাত। একপর্যায়ে স্থানীয় কয়েক জন শিশুদের ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলে তাদের ওপরে হামলা চালান রিফাত ও তার লোকজন।
অভিযোগ স্বীকার করে রিফাত করিম বলেন, ‘শিশু সোহেল খুব গরিব ঘরের সন্তান, তার মা বোবা আর বাবা বধির। এ কারণে সে আমার দোকানে ব্যবসা শিখতে চাওয়ায় আমি তাকে সুযোগ করে দিয়েছি। কিন্তু সে দোকান থেকে টাকা চুরি করে তার চাচাতো ভাই ইব্রাহিমের কাছে জমা দিয়েছে বলে আমার সন্দেহ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ধরে এনে খাঁচায় ঢুকিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি।’ একপর্যায়ে সোহেল ৩০০ টাকা চুরি করেছে বলে স্বীকার করে। তবে রিফাত শিশুদের ইলেকট্রিক শক ও জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘ঐ দিন আমাকে কয়েক জন মিলে মারধর করে। এজন্য আমি এখন হাসপাতালে ভর্তি আছি।’
এদিকে, নির্যাতিত শিশুদের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের চেষ্টা করা হলে আওয়ামী লীগের দুই প্রভাবশালী নেতার হস্তক্ষেপে মামলা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে রামু থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘শিশু নির্যাতনের ভিডিও ক্লিপ দেখে আমি স্বপ্রণোদিতভাবে আমার একজন অফিসারকে ঐ এলাকায় পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু নির্যাতিত শিশুদের পরিবার কিছুতেই মামলা করতে রাজি হচ্ছে না।’
