একে একে সব ধাপ পার হয়ে এবার প্রায় শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছে ইউরো। লন্ডনে আজ প্রথম সেমিফাইনাল, ইতালি-স্পেনের মহারণ, রাত ১টায়। বিশ্ব ফুটবলের যেখানেই ইতালি স্পেন থাকুক না কেন, এই দুই দলের মুখোমুখি ফুটবলের যে কোনো মঞ্চে উত্তেজনার পারদ ছড়ায়। এই ম্যাচে কাউকেই ফেভারিট বলা যাবে না। ইতালি কিংবা স্পেন নিজেরাও নিজেদের ফেভারিট মনে করছেন না।
হাইভোল্টেজ ম্যাচ অথচ এই দুই দলই ইউরোর শুরু আগে খুব একটা আলোচনায় ছিল না। অবশ্য কারণও আছে। এই যেমন ইতালির ফুটবল ঐতিহ্য ডুবতে বসেছিল। আর স্পেন ইউরোর শুরুটা ছিল খুব হতাশজনক। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে গোলশূন্য করে পোল্যান্ডের বিপক্ষেও পিছিয়ে থেকে ১-১ গোলে ড্র করেছিল ১৯৬৪, ২০০৮ এবং ২০১২-এর ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
স্লোভাকিয়াকে ৫-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে কোনো রকমে শেষ ষোলয় উঠেছিল। সেই স্পেন ক্রোয়েশিয়াকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে আজ সেমিফাইনাল খেলছে। ইউরোর এই আসরে স্পেন সব থেকে বেশি গোল করেছে ১২টি। আর ইতালি গোল করেছে ১১টি। দুই দলই প্রমাণ করেছে যে, স্কোরিংয়ের জন্য তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র আছে। ইতালির অধিনায়ক জর্জিও কিয়েল্লিনি, কিয়াসা, লুকাতেললিল, বারেল্লা, পেসিনা, লরেঞ্জো ইনসিনিয়ে এবং স্পেনের অধিনায়ক সার্জিও বুসকেটস, জর্ডি আলবা, ফেরান তোরেস, আলবারো মোরাতা, পেদ্রিদের আছে মাতিয়ে দিতে পারেন ফুটবল দর্শকদের। করোনা থেকে মুক্ত হয়ে অধিনায়ক সের্হিও বুসকেটস মাঝমাঠে ফেরার পর থেকেই মূলত ঘুরে দাঁড়ানো শুরু স্পেনের। ফেরার প্রথম দুই ম্যাচেই হন ম্যাচসেরা। বুসকেটসের উপস্থিতিতে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করেই পরের তিন ম্যাচে জয় তুলে নেন স্প্যানিশরা। সেমিতেও যে সেই বুসকেটসের অধীনে মাঝমাঠ ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে সেটা ম্যাচের আগে গতকাল স্বীকার করে নিয়েছেন ইতালির মিডফিল্ডার নিকোলাস বারেলা, ‘স্পেনের যেই দলটা ইউরো জিতল, সেই দলে দারুণ সব মিডফিল্ডার ছিল। জাভি-ইনিয়েস্তার মতো চ্যাম্পিয়নরা সবাইকে অনুপ্রাণিত করে। আমাকেও করে। এই দেখুন, আজ বুসকেটস থাকবে ওদের দলে। যিনি কিনা গেল কয়েক বছর ধরেই বিশ্বসেরাদের একজন।’
ইতালির দুই তারকা মিডফিল্ডার জর্জি ও মার্কো ভেরাত্তির প্রশংসা করে বারেল্লা বলেন, ‘ওরা অবিশ্বাস্য দুজন ফুটবলার। খেলা নিয়ন্ত্রণ করে। কখনো ভুল করে না। আমরা সমস্যায় পড়লে সে সব সময় সমাধান দেয়।’
সব শেষ কথা হচ্ছে, গৌরব আছে স্পেনের। তারা তিনবার ইউরোর ট্রফি নিয়েছে। আর ’৬৮ সালে একবারই ইউরো জিতেছিল ইতালি। তাই তাদের ট্রফির খিদেটা অনেক বেশি। তবে এটাও ঠিক যে পুরান সব পরিসংখ্যান কোনো কাজে আসবে না আজ।
