গ্রামাঞ্চলে করোনা সংক্রমণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিনই সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উর্দ্ধমুখী। বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। গ্রামাঞ্চলে আক্রান্তের হার ৩০ থেকে ৭০ ভাগ পর্যন্ত। গ্রামাঞ্চলে চিকিত্সা সেবার অব্যবস্থাপনার চিত্র প্রতিদিনই ইত্তেফাকে ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। যারা করোনাসহ অন্যান্য রোগের চিকিত্সা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করবেন সেই ধরনের জনবলের সংকট রয়েছে। যারা চিকিত্সা দেবেন তারাই যখন হাসপাতালে নেই সেখানে চিকিত্সা সেবাও নেই। অভ্যন্তরীন অব্যবস্থাপনা, নানা অনিয়ম এবং চিকিত্সা না পেয়ে রোগীদের ভাগিয়ে নিয়ে ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে দালালরা। এই সমস্ত ক্লিনিকে গিয়ে গ্রামের দরিদ্র লোকেরা নি:স্ব হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্ত চিকিত্সা ব্যবস্থাপনা জেলা থেকে গ্রামের ওয়ার্ড পর্যন্ত এই চিকিত্সা ব্যবস্থা মনিটরিং এর দায়িত্ব বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ও জেলা সিভিল সার্জনের। এরা কেউই এই অব্যবস্থাপনা ও অীনয়মের বিষয়টি কখনো মনিটরিং করেন না। এই অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স্রের কর্মকর্তা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রিপোর্ট প্রেরণ করেন। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এ সমস্ত বিষয়ে কখনো কোন ব্যবস্থা নেন না। যেসব অভিযোগ আসে তা রাখা হয় ফাইল বন্দি করে। নিয়মানুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা নিজেদের দায়িত্ব পালন না করে আখের গোছানো নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এখানে দুর্নীতিবাজ আফজাল, মালেক ড্রাইভারদের অনুসারী অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছে। তারা এগুলোকে ফাইল বন্দি করে রাখে। তদবির বা উেকাচ দিলে কোন কোন ফাইল তখন ছাড়া হয়।
উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, সেখানে জুনিয়র কনসালটেন্ট, মেডিকেল অফিসার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অর্ধ শতাধিক পদ খালি। ওষুধ সরবরাহ একেবারে খুব কম। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. রঞ্জন বড়ুয়া রাজন বলেন, জনবলসহ অন্যান্য চিকিত্সা সামগ্রীর অভাবে রোগীদের চিকিত্সা সেবা ব্যহত হচ্ছে। অপারেশনও বন্ধ রয়েছে।
কচুয়া (চাদপুর) সংবাদদাতা জানান, সেখানকার হাসপাতালের ২১টি পদের মধ্যে নয়টি পদই শূণ্য। আটজন কনসালটেন্টের পদই শূণ্য। কমিউনিটি ভিশন সেন্টার চালু থাকলেও চক্ষু কনসালটেন্ট নাই। গাইনি কলসালটেন্ট নাই, যার কারনে মহিলা রোগীরা চিকিত্সা পাচ্ছেন না। এক্সরে মেশিন না থাকায় করা যাচ্ছে না এক্সরে। অপারেশনও বন্ধ। আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন নাই।
বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা জানান, অক্সিজেনসহ নানা জনবলের অভাবে চিকিত্সা সেবা ব্যহত হচ্ছে। অক্সিজেন না পেয়ে মকুল (৫৬) নামে একজন এনজিও কর্মকর্তা মারা যান। আত্মীয়-স্বজনরা বারবার অক্সিজেন দেওয়ার জন্যও অনুরোধ জানালে তাতে চিকিত্সকরা কর্ণপাত করেননি। তাকে বারান্দায় ফেলে রাখা হয়। পরে মারা যান তিনি।
কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, ২১ টি পদের বিপরীতে ১৬ জন চিকিত্সক কর্মরত আছেন। অ্যানেসথেসিয়ার চিকিত্সক না থাকার কারনে সিজারিয়ানসহ অন্যান্য অপারেশন বন্ধ। এছাড়া জনবলের সংকটে চিকিত্সা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে কলারোয়ায় করোনা আক্রান্তের হার একটু নিম্নগামী রয়েছে। এখানে কোন আইসিইউ বেড নাই। কোন করোনা ওয়ার্ডও চালু নাই।
জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, স্থানীয় হাসপাতালে চিকিত্সকের ৪৫টি পদের মধ্যে ১৯ পদই শূণ্য। আইসিইউ চালু নাই। এখানে প্রতিদিন গড়ে ২৫০/৩০০ রোগী ভর্তি করা হয়। আশপাশের জেলা থেকেও দৈনিক কয়েকশ রোগী চিকিত্সার জন্য আসে। জরুরি বিভাগে ইমাজেন্সি মেডিকেল অফিসার সাতজনের স্থলে ২ জন আছে। জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি), নাক-কান-গলা এবং চক্ষু, অর্থোপেডিক সার্জারি, চর্ম ও যৌন রোগ, প্যাথলজিস্ট ও রেডিও লজিস্ট এবং ব্লাড ব্যাংকের মেডিকেল অফিসারের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূণ্য। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফিজিওথেরাপি, ইপিআই, কার্ডিওগ্রাফার, ইসিজি, ডায়ালাইসিস ও ইকো টেকনিশিয়ান নাই। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী পদও শূণ্য রয়েছে।
গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, ২১ জন চিকিত্সকের মধ্যে ৫ জন চিকিত্সকের পদ শূণ্য রয়েছে। এছাড়া জুনিয়র কনসালটেন্টের পদও শূণ্য। এছাড়া টেকনোলজিস্টসহ আরো ২৪টি পদ শূণ্য রয়েছে। এক্সরে মেশিন নষ্ট তিন মাস ধরে।
ভালুকা (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় কোন প্রস্তুতি সেই এই হাসপাতালের। নামমাত্র আইসোলোশন থাকলেও নেই কোন কার্যক্রম। অন্যান্য জনবলেরও সংকট। পরীক্ষা-নিরীক্ষারও তেমন কোন ব্যবস্থা নাই।
পুটিয়া (রাজশাহী) সংবাদদাতা জানান, পুটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সক ও জনবল সংকট দীর্ঘদিন ধরে। সাতজন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ও একজন মেডিকেল অফিসারের পদ শূণ্য রয়েছে। সবমিলিয়ে মোট ৫২ রোগীর পদ শূণ্য রয়েছে। স্বল্প সংখ্যক জনবল দিয়ে কি চিকিত্সা দেব তা বলেন আপনারাই। যে জনবল রয়েছে সেটা দিয়ে সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. আ. মতিন বলেন, শূণ্যপদ পূরণের চলমান প্রক্রিয়া উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
