রংপুর বিভাগে করোনার চিকিত্সায় বিশেষায়িত ১০০ শয্যাবিশিষ্ট রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। এ তথ্য জানিয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায় বলেছেন, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালে ১০১ জন করোনা রোগী ভর্তি হয়ে চিকিত্সা নিচ্ছেন। এদিকে এই হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চিকিত্সার জন্য গতকাল রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডটি করোনা ডেডিকেটেড ওয়ার্ড হিসেবে চালুর ঘোষণা দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। সেখানে আইসিইউর সুবিধা না থাকলেও সেন্ট্রাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকবে। রংপুর মেডিক্যালের চিকিত্সকেরাই সেখানে দায়িত্ব পালন করবেন। রবিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় রংপুর বিভাগে ১৬ জন মারা গেছেন। শনিবার মৃত্যু হয় ১৪ জনের। গতকাল পর্যন্ত করোনায় এ বিভাগে ৫৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর গতকাল নতুন করে ৫৫৬ জনের দেহে করোনার ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে রংপুর কোভিড হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবক চিকিত্সক চেয়ে গত রবিবার সকালে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এস এম নুরুন্নবী। সেখানে তিনি বলেন, ‘এই হাসপাতালে বর্তমানে ২০ জন চিকিত্সক কাজ করছেন। দেশের এই মহামারির ক্রান্তিলগ্নে আপনি যদি একজন তরুণ চিকিত্সক হয়ে থাকেন, তবে ভলান্টিয়ার হিসেবে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের সেবায় আত্মনিয়োগ করে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বিশেষ অবদান রাখতে পারেন। নিজকে বিরোচিত করতে পারেন। রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় গুণমানের চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করতে কিছু ভলান্টিয়ার তরুণ চিকিত্সক প্রয়োজন। আপনাকে সুরক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। ভালো থাকুন, নিরাপদে থাকুন।’
ঐ হাসপাতালে শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা অক্সিজেনের সংকট ছিল। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন রোগীর স্বজনসহ খোদ স্বাস্থ্য বিভাগ। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে গত শনিবার দুপুরে এক জরুরি বৈঠকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডটি করোনা ডেডেকিটেড ওয়ার্ড হিসেবে চালুর ঘোষণা দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ।
চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রতিমুহূর্তে করোনায় আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। অনেকের অবস্থা গুরুতর। শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউতে রোগীর চাপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে রংপুর বিভাগের একমাত্র করোনা হাসপাতালটিতে কোনো বেড খালি নেই। আইসিইউ খালি নেই আগে থেকেই। ফলে নতুন আসা রোগীদের চিকিত্সা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিত্সকদের। কর্তৃপক্ষ বলছে, হাসপাতালটিতে মাত্র ১০টি আইসিইউ বেড। তার মধ্যে দুটিতে ভেন্টিলেটর নেই। বাকি আটটি অনেক আগেই রোগীতে পূর্ণ হয়ে আছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুরুননবী বলেন, ‘এটি ১০০ শয্যার হাসপাতাল হলেও মূলত অক্সিজেনের সাপোর্ট আছে ৯১টিতে। রবিবার সকাল পর্যন্ত ১০১ জন রোগী ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে চার জনকে আমরা অক্সিজেন সাপোর্ট দিতে পারছি না। পালটাপালটি করে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’ তিনি বলেন, ‘ভোর ৪টায় আমাদের অক্সিজেনবাহী গাড়ি আসার কথা ছিল। কিন্তু গাড়ি যথাসময়ে না আসায় আমরা খুব দ্রুত রিজার্ভ অক্সিজেন দিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক করেছি। এতে কিছুক্ষণের জন্য অনেক রোগী অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তবে আল্লাহর রহমতে কোনো অসুবিধা হয়নি। এখন অক্সিজেন সরবরাহ স্বাভাবিক আছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সীমিত জনবল দিয়েই সেবা নিশ্চিত করছি।’
