বুয়েটের ‘অক্সিজেট’ প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনতে পরামর্শ

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২১, ০০:৩২

করোনা রোগীদের জন্য বুয়েটের তৈরি ‘অক্সিজেট’ নামের ডিভাইস প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনার পরামর্শ দিয়েছে হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে এ পরামর্শ দিয়ে আদালত বলেছে, অক্সিজেটের ওপর মিডিয়ায় ইতিবাচক প্রতিবেদন পড়েছি। কোভিড তো আমাদের সবার চোখ খুলে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অনেক ইনোভেটিভ মাইন্ডের। করোনাকালে যদি নতুন এই ডিভাইসে জনগণের প্রাণ রক্ষা হয় নিশ্চয়ই বিচার-বিবেচনা করে তিনি দেশের স্বার্থে তা ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারেন। এজন্য ডিভাইসটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনের লক্ষ্যে উনার মুখ্য সচিবকে চিঠি লিখুন।

‘অক্সিজেট’ নামের ডিভাইস ব্যবহারের জন্য স্বাস্থ্য ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রতি আদালতের নির্দেশনা চাইলে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্টের একক ভার্চুয়াল বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ পরামর্শ দেন।

সম্প্রতি বুয়েটের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডক্টর তওফিক হাসানের নেতৃত্বে তৈরি করেছে ‘অক্সিজেট’ নামের একটি ডিভাইস। যা দিয়ে হাসপাতালের সাধারণ বেডেই ৬০ লিটার পর্যন্ত হাইফ্লো অক্সিজেন দেওয়া যায়।

গতকাল এ বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে এনে ব্যারিস্টার অনীক আর হক বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে অক্সিজেটের। সেখানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন করোনা রোগীকে এই যন্ত্র দিয়ে হাইফ্লো অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর এটা ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না। তারা বলেছে, কোনো কোম্পানির উত্পাদিত পণ্য না হলে অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।

এ পর্যায়ে বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘আমরা সবসময় বিদেশ থেকে সরকারি জিনিসপত্র কেনাকাটা করতে বেশি আগ্রহী হই। দেশীয় উদ্ভাবিত জিনিসে অতটা আগ্রহী হই না।’ আইনজীবী বলেন, ‘হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার সংকটে প্রাণহানি বাড়ছে। সেক্ষেত্রে অক্সিজেট ডিভাইস হতাশার মাঝে আশার আলো।’

বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, এই ধরনের ডিভাইস নিয়ে পাবলিক ক্যাম্পেইন দরকার। আপনি (আইনজীবী) এ বিষয়ে নজরে আনার জন্য স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালককেও চিঠি দেন। কারণ আদালতের আদেশ ছাড়াই যদি বিষয়টির সুরাহা হয় তাহলে তো ভালো। কারণ সরকারি জিনিসপত্র কেনাকাটা নিয়ে নানা নিয়মনীতি রয়েছে। রয়েছে নানা ঝামেলা। আমরা এখান থেকে তো এই ডিভাইসের ভালো বা খারাপ দিক কী কী সেটা বুঝতে পারব না।’ এরপর ঐ আইনজীবী বলেন, আমি চিঠি দিব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

প্রসঙ্গত, হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা ও আইসিইউ স্বল্পতার কারণে অনেক রোগীকেই বেশি পরিমাণ অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হয় না। তখন এর বিকল্প হিসেবে অক্সিজেট ব্যবহার করা হলে চলমান আইসিইউ ও হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার সংকটে এই যন্ত্র করোনা রোগীদের প্রাণ রক্ষায় কাজে লাগবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।