হেফাজত নেতাদের অনুরোধ নাকচ করে দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল সোমবার রাতে হেফাজতের আমির জুনাইদ বাবুনগরী ও মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদী ধানমন্ডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় যান। দুই ঘণ্টা বৈঠক শেষে হেফাজত নেতাদের বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান। তবে মধ্যরাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইত্তেফাককে বলেন, তারা মাদ্রাসা খুলে দেওয়া ও গ্রেফতার হেফাজত নেতাকর্মীদের মুক্তির অনুরোধ করেছেন। কিন্তু মামলা চলমান থাকায় তাদের মুক্তির বিষয়ে কোনো ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই। এটি আদালতের এক্তিয়ার। আর করোনার এই কঠিন সময়ে যখন সবকিছু বন্ধ রাখা হচ্ছে, সেখানে মাদ্রাসা খুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়গুলো হেফাজত নেতাকে বলা হয়েছে।
লকডাউনের মধ্যে গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় যান বাবুনগরী। সঙ্গে হেফাজতের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদীও ছিলেন। কয়েকজন নেতাকেও তাদের সঙ্গে গাড়িতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় ঢুকতে দেখা যায়। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন বাবুনগরী ও জিহাদী। অন্যরা বাইরে ছিলেন। ঢোকার সময় কিংবা বের হওয়ার সময় সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে তারা কোনো কথা বলেননি। এর আগে গত ৪ মে নুরুল ইসলাম জিহাদীর নেতৃত্বে হেফাজতের নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তখনো তারা সাম্প্রতিক সহিংসতার মামলায় দেশ জুড়ে গ্রেফতার হওয়া হেফাজত নেতাদের ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। গত ১৯ এপ্রিলও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন হেফাজতের নেতারা।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতায় বিক্ষোভ-হরতাল থেকে হেফাজতে ইসলাম ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালায়। এরপর পুলিশ হেফাজতের নেতাদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে। অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী শুধু ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতেই গ্রেফতার হয়েছে। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মামলায় বাবুনগরীর ব্যক্তিগত সহকারী ইন’আমুল হাসান ফারুকীকেও গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, হেফাজত নেতারা নাশকতার বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিলেন, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রক্ষমতা দখল।
