রিমান্ডে নারীকে যৌন নির্যাতন

ওসি, তদন্ত কর্মকর্তা, এএসপিকে আসামি করে মামলা

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২১, ০৯:৩০

বরিশালের উজিরপুরে হত্যা মামলার এক নারী আসামিকে রিমান্ডে যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে থানার ওসি, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সার্কেল এএসপিসহ (সহকারী পুলিশ সুপার) অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাতে উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি মো. মমিন উদ্দিন জানান, আদালতের নির্দেশে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে যৌন নির্যাতনের শিকার ঐ নারী আসামি কারা হেফাজতে থেকেই মামলাটি দায়ের করেছেন।

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি এসএম আক্তারুজ্জামান জানান, নারী আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় ও এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার জন্য উজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল আহসান ও পরিদর্শক (তদন্ত) মাইনুল ইসলামকে ইতিমধ্যে প্রত্যাহার এবং বিভাগীয় মামলার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ওসি, তদন্ত কর্মকর্তা ও সার্কেল এএসপির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ঐ নারীর মামলার তদন্তের জন্য জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুার মো. ইকবাল হোসাইন নিযুক্ত হয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান ডিআইজি।

ঐ নারীর আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মজিবর রহমান বলেন, থানায় রিমান্ডে নিয়ে তার মোয়াক্কেলকে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতন করেছে পুলিশ। আবার আদালতের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তও করছে পুলিশ। পুলিশের তদন্তে পুলিশের অপরাধ প্রমাণিত হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান তিনি। এ কারণে এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী জানান আইনজীবী মজিবর রহমান।

আদালত সূত্র জানায়, গত ২৬ জুন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জামবাড়ি এলাকা থেকে বাসুদেব চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তির মৃত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার ভাই বরুণ চক্রবর্তী ঐদিনই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঐ মামলায় আসামি করা হয় এক নারীকে। যার সাথে তার ভাইয়ের পরকীয়া সম্পর্ক ছিলো বলে দাবী করেন বরুণ। এই মামলার আসামি হিসেবে ঐদিন সেই নারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। থানা পুলিশের ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৩০ জুন বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উজিরপুর আমলী আদালত নারী আসামীর ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে গত ২ জুলাই ঐ নারীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তাকে খুড়িয়ে হাটতে দেখে এর কারণ জানতে চান আদালতের বিচারক। ঐ নারী আদালতের কাছে তাকে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন পুলিশের বিরুদ্ধে। আদালত একজন নারী কনস্টেবল দিয়ে তার দেহ পরীক্ষা করে শারীরিক এবং যৌন নির্যাতনের প্রাথমিক সত্যতা পান। এরপর আদালত তার যথাযথ চিকিৎসা প্রদান এবং তাকে নির্যাতনের বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে। পরিচালক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন যাতে আঘাতের চিহ্নর কথা উল্লেখ রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ইত্তেফাক/এমআর