লকডাউনে চারদেয়ালের মাঝে বন্দি থেকে থেকে বাচ্চারা অস্থির হয়ে উঠছে। তাদের মানসিক অবস্থা বোঝতে শুধুমাত্র অভিভাবক বা প্রতিপালক রূপে নয়, বন্ধু হয়ে পাশে থাকতে হবে। কিন্তু মুশকিলটা হলো, বাচ্চাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতানো খুব একটা সহজ কাজ নয়। কারণ, বেশিরভাগ বাচ্চারাই প্রাপ্তবয়স্কদের খুব একটা বিশ্বাসের চোখে দেখে না। তাদের জগতে ঢোকার নির্দিষ্ট কোনো পাসওয়ার্ডও নেই। তাই, তাদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে হলে অভিভাবকদেরকে তাদের মতো করে ভাবতে হবে।

অধনস্ত নয়, সন্তানকে ব্যক্তি হিসাবে দেখুন: এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, প্রাপ্তবয়স্কদের মতো বাচ্চাদেরও নিজস্ব অনুভূতি, পছন্দ-অপছন্দ, মতামত রয়েছে। হতে পারে বয়সে, অভিজ্ঞতায় সে আপনার সমকক্ষ নয়, কিন্ত তাই বলে কখনোই ওকে আপনার অধস্তন ভাববেন না। বড়রা অনেকসময় বাচ্চাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে ব্যর্থ হন কেননা অজান্তেই তারা এই বাচ্চাদের তাচ্ছিল্যের চোখে দেখে ফেলেন। সন্তানকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে ভাবলে, তার নিজের প্রতিও বিশ্বাস জন্মাবে এবং আপনার সাথে বন্ধুত্বে আগ্রহী হয়ে উঠবে।

উপদেশ দেওয়ার আগে ভাবুন: জেনারেশন গ্যাপ বন্ধুত্বের অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় কখনো কখনো। সন্তানকে কোনো ব্যাপারে তিরস্কার করার আগে ভেবে দেখুন ওই নির্দিষ্ট প্রসঙ্গে আপনি সমালোচনার ঊর্ধ্বে কি না। যে উপদেশই দেন না কেনো, সেটা দেওয়ার আগে অবশ্যই ভেবে দেখুন, প্রতিদিনের জীবনে আপনি আদৌ প্রয়োগ করেন কি? কারণ, বাচ্চারা কোনো দ্বিচারিতা বা কপটতা পছন্দ করে না। সে যদি বুঝতে পারে আপনার মধ্যে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড কাজ করছে, তাহলে আপনার ওপর তার ভরসা হারাতে দেরি হবে না।

খেলার সঙ্গী হবেন: আপনার সন্তানের সঙ্গে খেললে শুধু যে তার বন্ধু হয়ে উঠতে পারবেন তাই নয়, অনাবিল আনন্দ উপভোগ করার সুযোগও পাবেন। সংসার, অফিসের হাজার দায়িত্বের পর এমন স্বতঃস্ফূর্তভাবে মজা করার সুযোগটা আর কোথাও পাবেন না। তাছাড়া তার খেলার সঙ্গী হলে, খেলাচ্ছলে সে কী খেলছে তার উপরেও তদারকি করতে পারবেন।

বিশ্বস্ততা অর্জন করুন: বন্ধুত্বের প্রথম শর্তই হলো একে অপরকে নির্দ্বিধায়, নির্ভয়ে সমস্ত কথা শেয়ার করা। বাচ্চারা সাধারণত ভয় পায়, তাদের অভিভাবকরা তাদের সমস্যাগুলোকে মন দিয়ে না শুনে বরং দোষারোপ করবে। বাচ্চারা যদি কোনো ভুল করে আপনার কাছে স্বীকার করে, তাহলে তাকে না বকে, খুব সহজ করে তার ভুলটা ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন। ও যেন আপনাকে বিশ্বাস করার সিদ্ধান্তটি নিয়ে কখনো আক্ষেপ না করে।

সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করুন: সব সময় সন্তানের বিভিন্ন সৃজনশীল কাজকে উৎসাহিত করবেন। প্রয়োজন হলে অবশ্যই সন্তানের কাজ বা প্রচেষ্টার ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দিতে হবে, কিন্তু চেষ্টা করবেন ওর সমস্ত কাজে পাশে থাকতে। এতে করে আপনাকে সে নিজের বেস্ট ফ্রেন্ড ভাবতে শুরু করবে। আর একবার যদি সন্তানের বিশ্বাসী বন্ধু হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে তাকে মানুষ করাও অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।
ইত্তেফাক/আরএম
