গতানুগতিক পথের বাইরে স্টার্টআপ ‘অ্যাসেন্ড’

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২১, ২১:৩৮

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শামীম হোসেন। শিক্ষা বিভাগ নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যে গড়ে তুলেছেন একটি সংগঠন। নাম ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল কন্টিবিউিশন অ্যান্ড অ্যাডুকেশন ডেভেলপমেন্ট’  (অ্যাসেন্ড)। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটিতেও আইডিয়াটি মনোনীত হয়েছে স্টার্টআপ সংগঠনটির।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের পরপরই বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে যুক্ত হন শামীম। সেখান থেকেই অভিজ্ঞতা অর্জন শুরু। ক্লাবে যুক্ত হওয়ার সুবাদে বড় মাপের মানুষদের সঙ্গে পরিচিতি ও বিভিন্ন বিষয়ে জানাশোনার পরিধি বাড়তে থাকে তার। পরিশ্রম এবং যোগ্যতায় বিভিন্ন ক্লাবের মধ্যমণি হয়ে উঠেন অল্প সময়ে। ২০২০ সালে নিজ হাতে গড়া সংগঠন ‘অ্যাসেন্ড’ নিয়ে যাত্রা শুরু করেন তিনি। গতানুগতিকতার বাইরে ‘অ্যাসেন্ড’কে ব্যতিক্রমী একটি সংগঠন হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন শামীম। শিক্ষার্থীদের চাকরি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যোগ্যতা বৃদ্ধি, চাকরি সম্পর্কে ধারণা এবং সে অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুতকরণ, তাত্ত্তিক ও ব্যবহারিক শিক্ষার গুরুত্ব, কর্পোরেট জব, উদ্যোক্তা, যোগাযোগ বৃদ্ধি, নেতৃত্বের যোগ্যতা, আইটি ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধিসহ নানা বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে সংগঠনটি। পাশাপাশি হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিংসহ নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে সংগঠনের সেক্টরগুলোকে শক্তিশালী করা হয়েছে। প্রথমদিকে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে আর পাঁচটা ক্লাবের মতো সংগঠনটির প্রাথমিক রূপ দাঁড় করান শামীম। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক অথরিটি’ স্টার্টআপগুলোর আইডিয়া চেয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেন শামীম। এটিই ছিল তার জীবনে প্রথম বিজনেস আইডিয়া কমপিটিশনে অংশগ্রহণ। প্রথম অংশগ্রহণ হিসেবে শুরুতে আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন শামীম। ফলাফলের ব্যাপারে কোনো খোঁজখবরও নেননি। পরে তার এক বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারেন— নির্বাচিত ৫৬টি আইডিয়ার মধ্যে চূড়ান্ত পর্বের জন্য তার আইডিয়াটি নির্বাচিত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ ফলাফল দেখে চক্ষু চড়কগাছ। দেশব্যাপী মনোনীত সেরা ৩০টি আইডিয়ার মধ্যে তার আইডিয়াটিও মনোনীত হয়েছে। শামীম বলেন, ‘সবেমাত্র শুরু করেছি। বহুদূর যেতে চাই, নিজের এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু করতে চাই।’