তরু

মুর্তা বা পাটিপাতা

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২১, ২১:৪০

মুর্তা বা পাটিপাতার বৈজ্ঞানিক নাম সুমানিয়ানথাস ডাইকটোমাস  আর পরিবার হলো মারানটেসী। মুর্তার বাইরের অংশ পৃথক করে বানানো হয় বেত বা বেতি। আর বেতিগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন ডিজাইনের শীতল পাটি তৈরি করা হয়। তাছাড়া জায়নামাজ, বিছানা, চাটাই, ঝুড়ি, বিভিন্ন শোপিসও তৈরি করা হয়। আর ভেতরের অংশ বাঁধাইয়ের কাজে ব্যবহূত হয়। মুর্তা বা পাটিপাতা  সাধারণত  মোথা বা রাইজোমের এবং বীজ উভয়ের সাহয্যে বংশ বিস্তার করে। তবে বীজ থেকে চারা তৈরি কষ্টসাধ্য এবং সময় সাপেক্ষ। বর্ষা মৌসুমে ছায়াযুক্ত স্থানে রাইজোম মাটিতে রোপণ করা হয়। গাছ লম্বায় ৩ থেকে ৫ মিটার যা দেখতে অনেকটা চিকণ গিঁটবিহীন সবুজ নলাকার দন্ডের মতো। ব্যাস ৩-৫ সেমি। সরু নলাকার কান্ডের বাহিরের আবরণ থেকে বেতি তৈরি হয় যা শীতলপাটি বুননের কাজে লাগানো হয়। পাটিগাছের গিঁটবিহীন কান্ড শেষ হলে শাখা বের হয় যাতে একটি করে সরল পাতা গজায়। পাতার মাঝে সাদা রঙের ছোট ফুল ফোটে।

আমাদের দেশে  এলাকাভেদে এ গাছটির নাম ভিন্নতর। চট্টগ্রামে পাটিপাতা ও পাটিরজং, নোয়াখালীতে মস্তাক, সিলেটে ও টাঙ্গাইলে পাইত্রাবন, পাটিবেত, বরিশালে মূর্তা বলে। চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, কুমিল্লা, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, সিলেট, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, ঝালকাঠি, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নাটোর, দিনাজপুর অঞ্চলের অব্যবহূত ভেজা মাটিতে বিশেষ করে মজা পুকুরের ধার, কুয়া নলকূপের কিনারা, খাল নর্দমার দুইকিনারা, পাহাড়ের ঢাল এসবে পাটিপাতা ভালো জন্মে। শুকনো মৌসুমে যেখানে পানি জমে সেখানে পতিত জায়গায় পাটিপাতা ভালো হয়। রোপণের ২/৩ বছর পর কাটার উপযুক্ত হয়।