আবহাওয়া অধিদপ্তরের গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদী বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞ কমিটির চলতি মাসের পূর্বাভাস প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জুলাই মাসে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, উত্তর-মধ্যাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলের কতিপয় স্থানে স্বল্প থেকে মধ্যমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। বন্যার কারণে বিগত বছরগুলোতে দেশে অনেক ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার কারণে অনেক প্রান্তিক কৃষক অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক কৃষক ফসলের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না পেরে একেবারে নিঃস্ব হয়ে যায়। বন্যার পানিতে বসতবাড়ি ডুবে যায়। এতে জীবনযাপন করা দুর্বিষহ হয়ে উঠে। মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুরও খাদ্য সংকট দেখা দেয়। খাদ্যদ্রব্যের অপ্রতুলতার কারণে দেশে খাদ্যদ্রব্যের দাম তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। এমতাবস্থায় আগাম বন্যা মোকাবিলায় দরকার পূর্ব প্রস্তুতি। আগত এ দুর্যোগ মোকাবিলায় পূর্ব প্রস্তুতির কোন বিকল্প নেই। বিগত বছরগুলোর ভুল শুধরে নতুন করে কাজ করে যেতে হবে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জনসাধারণকেও সর্তক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে সাবধানের মার নেই। এমনিতেই দেশে এখন করোনা মহামারীর তৃতীয় ঢেউ বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে তা হবে ‘মড়ার উপর খাড়ার ঘায়ের’ মতো। যথাযথ এবং সময়মতো প্রস্তুতি না নিলে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। সরকারের সকল দপ্তরকে সম্মিলিতভাবে পরিকল্পনামাফিক আগাম বন্যা মোকাবিলায় কাজ করতে হবে। সেজন্য এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেয়া উচিত।
ফজলে রাব্বি
ঢাকা
