মানিকগঞ্জ দৌলতপুর উপজেলার দৌলতপুর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে চলতি বছরের গত ১৫ জুন উপজেলা শিক্ষা অফিসার প্রধান শিক্ষক দেলোয়ারা বেগমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছেন ।
জানা গেছে, গত ২০১৮ সালের ৩ এপ্রিল উপজেলার ৭৮ নম্বর দৌলতপুর-২ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন দেলোয়ারা বেগম। এরপর থেকেই তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাত্ করে আসছেন।
২০১৯-২০ অর্থবছরে বিদ্যালয়ের স্লিপ কার্যক্রমের জন্য ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দের ৭০ হাজার টাকা থেকে ১৪ হাজার টাকা দিয়ে স্টিলের আলমারি ক্রয় করা হয়েছে ,যা স্লিপের নীতিমালা বহির্ভূত। এছাড়াও ২০১৯-২০ অর্থবছরের ভাউচার এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের ভাউচারে বারবার একই পণ্য দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দের অর্থ আত্মসাত্ করেছেন তিনি। বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু কর্নার, দেওয়াল অঙ্কন, মেরামতের নামে দফায় দফায় অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে । এ ব্যাপারে মোবাইল ফোনে দেলোয়ারা বেগম দাবি করেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ৭০ হাজার টাকা থেকে কোনো অনিয়ম হয়নি। আলমারি ক্রয় করা যাবে না সেটা তার জানা ছিল না। এছাড়া বঙ্গবন্ধু কর্নার দুইবার করার কথা স্বীকার করেন তিনি । এ সংক্রান্ত তার কাছে নাকি আলাদা ভাউচার আছে ।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনজুরুল হক বুলবুল বলেন, তার জানামতে তিনি (প্রধান শিক্ষক) কোনো অনিয়ম করেননি। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বরাদ্দকৃত টাকার ব্যয়ের খাতায় উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্বাক্ষর করেছেন। এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘ঐ বিদ্যালয়ে আমি পরিদর্শন করেছি। বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
