স্বরূপকাঠির সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম তীরে অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বিভিন্ন গ্রামের বসতঘর, বাগানবাড়ি, ফসলি জমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। রবিবার রাতে সন্ধ্যা নদীর হঠাত্ ভাঙনে পূর্ব সোহাগদল গ্রামের মো. আমিনুল ইসলামের টিনশেড আধাপাকা ঘরের মালামাল সরিয়ে টিনের চালা খুলে ফেলা হয়। বিল্ডিংয়ের ভেতরে দেখা দিয়েছে ছোট-বড় ফাটল। যে কোনো সময় আধাপাকা ঘরটি বিলীন হতে পারে সন্ধ্যা নদীর গর্ভে। দেখা গেছে, ভাঙনে প্রায় ১০ শতাংশ বাগানবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সম্প্রতি কৌরিখাড়া পোস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় আনুমানিক তিন শতাংশ, পূর্ব সোহাগদল গ্রামের গাফফার ও সত্তারের ১৫ শতাংশ এবং গনমান গ্রামে মরহুম হাছেন চেয়ারম্যানের প্রায় ১৫ শতাংশ বাগানবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে।
জানা গেছে, দুই যুগ ধরে সন্ধ্যার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীর ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে ছিন্ন মূলে পরিণত হয়েছে অনেক পরিবার। মাস দুয়েক আগে গনমান গ্রামের মো. ফজলুল হক, আবুল, নজরুল কালাম, সাগরসহ অনেকের প্রায় তিন একর বাগানবাড়ি সন্ধ্যার গর্ভে তলিয়ে গেছে। সন্ধ্যা নদীর অব্যাহত ভাঙনে ইতিমধ্যে দক্ষিণ কৌরিখাড়া ও গনমান গ্রামের অনেক অংশ বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত এলাকায় অনেক পরিবার এখনো তাদের শেষ আশ্রয়স্থল বসতভিটায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। ছয়-সাত বছর আগে উত্তর কৌরিখাড়া ও দক্ষিণ কৌরিখাড়া ভাঙনকবলিত খেয়াঘাট সংলগ্ন সামান্য এলাকায় ব্লক ও জিও ব্যাগে বালু ভর্তি করে ফেলে। ঐ এলাকার ভাঙন রোধ হলেও দক্ষিণ দিকের দ. কৌরিখাড়া, পূর্ব সোহাগদল ও গনমান গ্রামের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
এ ব্যাপারে পিরোজপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবে মাওলা মো. মেহেদি হাসান ইত্তেফাককে জানান, সন্ধ্যা নদীর ভাঙনের কথা শুনেছি। পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে এবং অনুমতি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো জানান, কৌরিখাড়ায় ২০০ মিটার এলাকায় পাউবোর একটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।
