জমে উঠছে নাগরপুরের নৌকার হাট

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২১, ২১:৫২

জমে উঠছে নাগারপুরের গয়হাটার নৌকার হাট। গত কয়েক দিনে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নাগরপুর উপজেলার গয়হাটায় নৌকার হাটে আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন আকৃতির নৌকা। তবে লকডাউনের কারণে এ বছর এখনো হাটে লোকজনের ভিড় কম। আর এজন্য এখনো তেমন বাড়েনি নৌকা বিক্রি।

উপজেলার এক পাশ দিয়ে যমুনা অন্য পাশ দিয়ে যমুনার শাখা নদী ধলেশ্বরীসহ বয়ে গেছে ছোট-বড় বেশ কয়েকটি নদী। আর এ কারণে বর্ষার শুরু থেকেই নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর একমাত্র ভরসার যান হলো নৌকা। পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জের চোহালী ও মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন চরাঞ্চল হওয়ায় এসব নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ সাধ্যের মধ্যে নৌকা কিনতে এ হাটে ছুটে আসছেন। আর এসব নিম্নাঞ্চলের মানুষের মালামাল পরিবহন ও যাতায়াতের একমাত্র বাহন হয়ে উঠেছে নৌকা। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এ নৌকার হাট শুধু নামেই বিখ্যাত নয়। এখানে সাধ্যের মধ্যে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য রয়েছে নানা ধরনের নৌকা। বড় কয়েকটি নদীতে পানি বাড়ায় ধীরে ধীরে ছোট শাখা নদীগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। আর এজন্য নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা আগাম প্রস্তুতির জন্য নৌকার হাটে আসতে শুরু করেছে। তবে করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে উপজেলার গয়হাটা কেন্দ্রীয় ঈদগাঁ মাঠে জমে উঠতে শুরু করেছে নৌকার হাট। প্রতিটি নৌকার মান ও আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে। একেকটি নৌকা চার থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। দৌলতপুর উপজেলার শিবলু মিয়া বলেন, বর্ষার সময় নৌকা ছাড়া আমাগো চলা ফেরা করার কোনো উপায় নেই। আর সেজন্যই প্রতি এক বা দুই বছর পর পর এ হাট থেকে নৌকা কিনি। তবে এ বছর এখনো পুরোদমে নৌকার বেচাকেনা শুরু না হওয়ায় পাইকাররা তাদের ইচ্ছেমতো দাম চাচ্ছেন। আর বাধ্য হয়েই বেশি দাম দিয়ে কিনতে হলো। নৌকার কারিগর কালিপদ তরফদার বলেন, লকডাউনের জন্য সব জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ বছর কিছুটা খরচ বেশি হচ্ছে নৌকা তৈরি করতে। আর সে অনুযায়ী দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় একটু বেশি। নৌকার দর একটু বেশি হওয়ায় হাটে বেচাকেনা কম হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গয়হাটা হাটের ইজারাদার খায়রুল ইসলাম বলেন, এ নৌকার হাটটি আমাদের উপজেলার ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে। গয়হাটার নৌকার এ হাটের সুনাম রয়েছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়।