করোনার সংক্রমণ ও লকডাউনের কারণে কয়েক দিন আগেও প্রায় ক্রেতাশূন্য ছিল আমের বাজার। এতে অনলাইন ব্যসায়ীরা অনেকটা তত্পর ছিলেন। কিন্তু এখন বদলে যাচ্ছে আমবাজারের দৃশ্যপট। এখন ৬০০ টাকার লকনা আম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ, অপরদিকে ১ হাজার ১০০ টাকার আম্রপালি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকা এবং ৮০০ টাকার ফজলি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। আমের দাম বাড়ার ফলে ব্যবসায়ী ও আমচাষিরা খুশি।
জানা গেছে, গত সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হওয়ায় আমের বাজারে ধস নেমেছিল। এতে অনেকটা উত্কণ্ঠা এবং দুশ্চিন্তায় ছিলেন এ অঞ্চলের আম ব্যবসায়ীরা। তারা ধরেই নিয়েছিলেন, এবার আমের ব্যবসায় তাদের বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে। কিন্তু বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় হঠাত্ করে গত দুই-তিন দিন ধরে আম ব্যবসায় লাভের আশা দেখতে শুরু করেছেন তারা। বাঘার আমোদপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক ও বাগান মালিক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বর্তমানে কৃষকদের কাছে তেমন একটা আম নেই। তারা ইতিমধ্যে বাগান চুক্তি আম বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন এ অঞ্চলে যে পরিমাণ আম রয়েছে তা সবই ব্যবসায়ীদের। কয়দিন আগে তারা যতটুকু লোকসান গুনেছেন, এখন আমের বাজার যে অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে তাতে তারা লাভের মুখ দেখছেন।
বাঘার আম ব্যবসায়ী মুক্তার আলী বলেন, বৃষ্টির কারণে আমের বাজার নিয়ে গত তিন-চার দিন আগেও চরম হতাশায় ছিলাম। কিন্তু গত দুই দিনে আমের বাজার পূর্বের চেয়ে দ্বিগুণ দাঁড়িয়েছে। এ থেকে আমরা এখন আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। তার মতে, বর্তমানে আমের বাজার যে অবস্থানে রয়েছে শেষ পর্যন্ত যদি এমন ভাবে চলে, তাহলে তারা লাভবান হবেন।
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, ‘এ বছর বাগানে প্রচুর পরিমাণ আম রয়েছে। কয়েক দিন আগে একটানা চার-পাঁচ দিন বৃষ্টির কারণে ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে ছিলেন। তবে গত দুই-তিন দিন থেকে বাজারে আমের দামের যে ঊর্ধ্বগতি, তাতে ব্যবসায়ীদের হতাশা কেটে গেছে। ঈদুল আজহার পরে বাজারে আশ্বিনা আম নামবে। সেখানেও ব্যাপক লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
