ছোট-বড় দুই পর্দাতেই বেশ জনপ্রিয়তা ধরে রেখে কাজ করছেন অভিনতা আবদুন নূর সজল। প্রতিটি চরিত্রেই নিজেকে ভিন্নরূপে হাজির করছেন দর্শকদের সামনে। নিজের সাম্প্রতিক ব্যস্ততাসহ শোবিজের নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে জানতে চাই—
করোনার কারণে এবারের ঈদে তেমনভাবে কাজ করছি না। তবে ‘টিচার’, ‘প্রতিবেশী একটু বেশি’ নাটকগুলোর কাজ শেষ করেছি। পাশাপাশি আরো ২-৩টি নাটকের কাজ চলছে।
ওটিটি মাধ্যমটি শোবিজের জন্য কতটা ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছেন?
শুধু ওটিটি নয়, যেকোনো নতুন মাধ্যমই ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভালো কিছুই বয়ে আনে। আমার মনে হয়, যে সকল নির্মাতা একটি ভালো গল্প নিজেদের মতো করে বলতে চায় এবং আমাদের সমাজ-সংস্কৃতির যে গল্পগুলো ছোট বা বড়পর্দায় তুলে ধরার সুযোগ ছিল না, সেগুলো প্রকাশ করার একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বলা চলে, অনেকরকম গল্পের কাজ দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের এখানেও যে মানসম্পন্ন অনেক কাজ হয় সেটা দেশের বাইরের দর্শকরাও দেখতে পাচ্ছে।
ভিউ গুণে স্টার ও নাটকের মান নির্ধারণের চর্চাকে কীভাবে দেখছেন?
আমার কাছে মনে হয়, যে মাধ্যমের কাজই হোক, সেটা ভালো হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি কাজের ভালো-মন্দ বুঝি। ভালো কাজের ভিউ হলেও ভালো, না হলেও ভালো।
আপনি নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও কাজ করছেন। দেশের চলচ্চিত্রে নিয়ে আপনার আশাবাদের জায়গা কোথায়?
আমাদের চলচ্চিত্র অনেক আগে থেকেই ঝিমিয়ে পড়েছে। আর এখন তো করোনার কারণে সব বন্ধই বলা যায়। তবে নতুন মাধ্যমগুলোর সঠিকভাবে ব্যবহার এবং চলচ্চিত্রের মানুষগুলো যদি প্রতিহিংসা না করে একাত্ম হয়ে কাজ করেন তাহলে নিশ্চয় চলচ্চিত্র সুদিন ফিরে পাবে। আমাদের একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা না করে ভালো কাজের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে।
হল বন্ধ থাকায় ওটিটিকে ছবি মুক্তির চর্চা ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে। আপনারও একটি ছবি ওটিটিতে মুক্তি পেয়েছিল। কিন্তু হলে আগে মুক্তি না দিয়ে ওটিটি মাধ্যমে মুক্তি দিলে হল সংকট আরো প্রকট হবে বলে মনে করছেন না?
এতে নিশ্চয় এই সংকট আরো দীর্ঘ হবে। ছবি আগে হলে মুক্তি দিয়ে পরে অন্য মাধ্যমে দিতে হবে। কারণ একটি ছবি কিন্তু হলের জন্যই নির্মিত হয়। তবে এগিয়ে যেতে হলে আমাদের দুই মাধ্যমই দরকার। নতুন এই মাধ্যমগুলোর সঙ্গে কিন্তু আমাদের সবারই পরিচিত হতে হবে, খাপ খাওয়াতে হবে। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, নতুন নতুন মাধ্যম তৈরি হচ্ছে, সুতরাং আমাদেরও সবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
সিনিয়র শিল্পীদের অবমূল্যায়ন নিয়ে নানা সমালোচনা রয়েছে। এতে মেধা সংকট তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন না?
এ বিষয়ে বলবো, আমাদের অনেক শক্তিশালী অভিনেতা রয়েছেন। তাদের অভিনয়, কাজের মান, তাদের দেখার জায়গা, বোঝার জায়গা এত বড় যে বলে শেষ করা যাবে না। এই গুণী মানুষগুলোর সঙ্গে কাজের সুযোগ পাওয়া কিন্তু আমাদের জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার। তাদের সঙ্গে কাজের সুযোগ মানেই শিক্ষা। তাদের মতো অভিনেতা যত বেশি স্ক্রিনে থাকবেন ইন্ডাস্ট্রি তত সমৃদ্ধ হবে।
