জামিনে বেরিয়ে গেলেন ভয়ংকর মাদক এলএসডির আসামি

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২১, ২৩:০৭

আদালতে তথ্য গোপন করে ভয়ংকর মাদক এলএসডিসহ (ডি-লাইসার্জিক অ্যাসিড ডায়োথিলামাইড) গ্রেফতার হওয়া আসামি জামিনে বের হয়েছেন। গত ৪ জুলাই ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে এলএসডিসহ গ্রেফতার আসামি মামদুহ আফজাল জামিনে মুক্তি পান। এর আগে গত ১ জুলাই র্যাব বনানীর পুরাতন ডিওএইচএসের ৬/এ নম্বর রোডের ৯৬ নম্বর বাড়ির নিচতলায় অভিযান চালিয়ে মামদুহ আফজাল (৩৬), জাহিন রহমান (৩২) ও আবিদ মোহাম্মদ সাফওয়ানকে (২১) গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে নতুন মাদক এলএসডি ও ডিএমটিসহ (ডাই মিথাইল ট্রাইপ্লামিন) এসব মাদক তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল উদ্ধার করে। ঐ ঘটনায় র্যাব-১-এর ওয়ারেন্ট অফিসার খোরশেদ আলম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার এসআই আসাদুজ্জামান গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠান।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল করা রিমান্ড আবেদনে তদন্তকরী কর্মকর্তা আর্জি জানান, ধৃত আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের সদস্য। তারা নিজেরাই নব্য ধারার মাদক সাইকোডলিক ড্রাগের পর্যায়ভুক্ত ডিএমটি, এলএসডি ও এমডিএমএ তৈরির কাঁচামাল পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে বিদেশ থেকে আনেন। তাদের সহযোগী সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহম্মেদ শাদাবের মাধ্যমে এ মাদক বাজারজাত করেন। সৈয়দ মঈন উদ্দিন ও তার সহযোগী স্বর্ণা ইসলাম বহ্নি (২১) ইতিপূর্বে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে বন্দি রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে নেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঐ তিন আসামিকে ভয়ংকর মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ মাদকদ্রব্য উত্পাদন ও বিপণন করে আসছেন। মাদকের উত্সসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামির তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড প্রয়োজন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আসাদুজ্জামান বলেন, আদালত প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ডে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করার পর দেশে এলএসডি ও ডিএমটি মাদক তৈরি সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যায়। কীভাবে বিদেশ থেকে কুরিয়ার সার্ভিসে মাদক তৈরির কাঁচামাল আনা হয়, সে সম্পর্কেও তথ্য জানা গেছে। রিমান্ড শেষে তাদের কারাগারে রাখার আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৪ জুলাই তাদের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে মামদুহ আফজালকে মুক্তি দেওয়া হয়। ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে বেরিয়ে সিএমএম আদালত প্রাঙ্গণেই কিছুক্ষণ উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরলেন মামদুহ। এদিক-সেদিক ঘুরে শেষে ফিরলেন বাড়িতে। বাকি দুই আসামি জাহিন রহমান ও আবিদ মোহাম্মদ সাফওয়ানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

একই মামলার রিমান্ডের তিন আসামিকে আদালতে হাজির করার পর একজনকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টিকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু বলেন, ‘কোন যুক্তিতে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে, সেটি কাগজপত্র দেখে বলা যাবে। একজন আসামিকে জামিন দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে আদালতের এক্তিয়ার। তবে বিষয়টি তদন্ত না করে মন্তব্য করা যাবে না। বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব।’

র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘নতুন মাদক এলএসডি ও ডিএমটি তৈরির কাঁচামালসহ আমরা তিন জনকে গ্রেফতার করেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে মাদক পাচারসংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছি। ঐ সব তথ্য দিয়ে র্যাব এই মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।’