সহস্রাধিক চিকিত্সক বদলি

ভুল শুধরে নতুন আদেশ

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২১, ০০:৫১

সহস্রাধিক চিকিত্সককে একসঙ্গে বদলি করার আদেশ বাস্তবায়নে জটিলতা থাকার কথা তুলে ধরে সমালোচনার মুখে তা সংশোধন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বদলির আদেশ দেওয়ার এক দিন পরই যেসব চিকিত্সকের বদলি আদেশ বাস্তবায়নে সমস্যা হবে তা আগামীকাল বৃহস্পতিবার ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে এসব চিকিত্সকের বদলির আদেশ স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা বিভাগ থেকে মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার রাতে গণবদলির তালিকায় থাকা রংপুর মেডিক্যাল কলেজের এক জন প্রয়াত ও এক জন অবসরে যাওয়া এবং বগুড়া মেডিক্যাল কলেজের এক জন প্রয়াত চিকিত্সকের নাম বাদ দিয়ে পৃথক নতুন আদেশ জারি করা হয়েছে। আগের আদেশে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের ৬৫ জনকে বদলি করা হয়। দুই জন বাদ যাওয়ায় নতুন আদেশে এই সংখ্যা নেমে এসেছে ৬৩টিতে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক ডা. ফেরদৌস আরা শেখ ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে ২০২০ সালে মারা গেছেন। আগের তালিকায় তিনি ছিলেন ৩ নম্বরে। অন্যদিকে তালিকায় ডা. ফেরদৌসের পরের নামটি ডা. মমতাজ বেগমের। রংপুর মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিভাগের এই সহকারী অধ্যাপক ২০২০ সালে অবসরে গেছেন। নতুন আদেশে তার নামও বাদ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে নতুন আদেশে শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের প্রয়াত ডা. জীবেশ প্রামাণিক স্বপনের নামও বাদ দেওয়া হয়েছে। আগের তালিকায় তিনি ছিলেন ১৫ নম্বরে। তাকে বগুড়া ২৫০ বেড মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের স্থগিতবিষয়ক আদেশে বলা হয়েছে, ‘সংযুক্তি আদেশ বাস্তবায়নে জটিলতা থাকলে সংশ্লিষ্ট চিকিত্সদের বাস্তবায়ন আদেশ স্থগিত রেখে আগামী ৮ জুলাইয়ের মধ্যে সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করে তাদের তালিকা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মেইলে পাঠাতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব আবু রায়হান মিয়া স্বাক্ষরিত আদেশে আরো বলা হয়েছে, ‘স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ৪ এবং ৫ জুলাইয়ের প্রজ্ঞাপনে কোভিড রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য সহকারী অধ্যাপক এবং প্রভাষক পদের চিকিত্সকদের বিভিন্ন হাসপাতালে সংযুক্তিতে পদায়ন করা হয়। এতে তথ্যগত অপ্রতুলতার কারণে আরটিপিসিআর ল্যাবসহ অন্যান্য ল্যাবে কর্মরত চিকিত্সক, কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে কর্মরত চিকিত্সক এবং মেডিক্যাল কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত একমাত্র চিকিত্সককে পদায়ন করা হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া চিকিত্সকের বর্তমান কর্মস্থলের বিষয়ে তথ্যগত ভুল থাকায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদেশ ‘ত্রুটিপূর্ণ’ হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। এসব কারণেই আগের আদেশে পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে নতুন আদেশে।

করোনা ভাইরাস মহামারি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় চাপ সামলাতে গত ৪ ও ৫ জুলাই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অন্তত ৪৮টি আদেশে ১ হাজার ২৩৯ জন চিকিত্সককে বুধবারের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। সেখানে তারা কোভিড ইউনিটে দায়িত্ব পালন করবেন। এই আদেশে এমন কিছু চিকিত্সককে বদলি করা হয়েছে যারা পিসিআর ল্যাবের দায়িত্বে আছেন। আবার এই তালিকায় অন্তত তিন জন চিকিত্সকের নাম রয়েছে যারা বছরখানেক আগেই মারা গেছেন। দুই জন চিকিত্সকের খোঁজ পাওয়া গেছে যারা চাকরি থেকে অবসরে গেছেন। হঠাত্ এই বদলি আদেশ নিয়ে চিকিত্সকদের মধ্যে দিনভর আলোচনার মধ্যে মৃত ও চাকরি ছেড়ে যাওয়া চিকিত্সকদের তালিকায় নাম থাকাকে কেউ কেউ ‘অদ্ভুত’ বলে মন্তব্য করেছেন। এটা কীভাবে সম্ভব হলো তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন তুলেছেন, তেমনি এমন আদেশকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ উল্লেখ করে চিকিত্সকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। উপসচিব জাকিয়া পারভিনের স্বাক্ষরে এসব প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘কোভিড-১৯ অতিমারি মোকাবিলা এবং জনসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের এই কর্মকর্তাদের ‘সংযুক্তিতে পদায়ন’ করা হলো। যেসব চিকিত্সককে বদলি করা হয়েছে তাদের বেশির ভাগই বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মেডিক্যাল কলেজ থেকে একই মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতালে, একই জেলার জেনারেল হাসপাতাল বা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিংবা পাশের কোনো জেলায় তাদের পাঠানো হয়েছে।

দেশে করোনা ভাইরাসের এই জটিল পরিস্থিতি আর লকডাউনের মধ্যে গণবদলির কারণ জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত চিকিত্সকদের বিভিন্ন হাসপাতালে পদায়ন করা হয়েছে। হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চাপ অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমানে কর্মরত চিকিত্সকরা এ চাপ সামাল দিতে পারছেন না। ফলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শেই তরুণ চিকিত্সকদের বদলি করা হয়েছে। তারা একটু কম প্রেশারে আছে। আমাদের অন্যান্য হাসপাতালে অন্য ডাক্তাররা খুব প্রেশারে পড়ে গেছে রোগীর চাপে। তারা সামলাতে পারছেন না। তাদের সহায়তা করতেই মেডিক্যাল কলেজ থেকে চিকিত্সকদের ডেকে আনা হয়েছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য। এটা কারো ব্যক্তিগত বিষয় না। ঐ জায়গায়ই আছে, সেখানে অ্যাটাচমেন্ট করে দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ১৫৬ জন চিকিত্সককে বদলি করা হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ থেকে। খাগড়াছড়ি জেলা হাসপাতাল, ফেনী জেলা হাসপাতাল, দাগনভূঁইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও পাঠানো হয়েছে তাদের কাউকে কাউকে।