এক দিনে সর্বাধিক ১১৫২৫ শনাক্ত মৃত্যু ১৬৩

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২১, ২৩:১৩

দেশে করোনা ভাইরাস ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। দেশে এক দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা সাড়ে ১১ হাজারের ঘরও ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সাড়ে ৩৬ হাজার নমুনা পরীক্ষা করে এযাবত্কালের সর্বোচ্চ রেকর্ড ১১ হাজার ৫২৫ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে আরো ১৬৩ জনের। যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশ, যা গত বছরের আগস্টের পর সর্বোচ্চ।

ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে গত ১ জুলাই থেকে সারা দেশে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়। তার আগের দিন ৩০ জুন রেকর্ড ৮ হাজার ৮২২ জন রোগী শনাক্তের খবর এসেছিল। সোমবার তা ছাড়িয়ে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পৌঁছায় ৯ হাজার ৯৬৪ জনে। এক দিন পরই তা প্রথমবারের মতো সাড়ে ১১ হাজার ছাড়িয়ে গেল। সোমবার সারা দেশে ১৬৪ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার সেই সংখ্যা কমেছে শুধু এক জন। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪০৬ জনে। তাদের মধ্যে ১৫ হাজার ৩৯২ জনের প্রাণ গেছে করোনা ভাইরাসে।

গত এক দিনে কেবল ঢাকা বিভাগেই ৫ হাজার ৯৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা দিনের মোট শনাক্তের প্রায় ৪৪ শতাংশের বেশি। চট্টগ্রাম বিভাগে এক দিনে শনাক্ত রোগী দেড় হাজার ছাড়িয়েছে, খুলনায় ছাড়িয়েছে ১ হাজার ৮০০। আর যে ১৬৩ জন গত এক দিনে মারা গেছেন, তাদের ৪৬ জনই ছিলেন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা। ঢাকা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জনের।

এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ২২ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ৯৮ জন পুরুষ এবং নারী ৬৫ জন। এখন পর্যন্ত পুরুষ ১০ হাজার ৮৮৩ জন এবং নারী মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ হাজার ৫০৯ জন।  ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৬০ ঊর্ধ্ব ৯১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ২৯ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২৭ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১১ জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে পাঁচ জন রয়েছেন। 

বিভাগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে মারা গেছেন ৪৫ জন, খুলনায় ৪৬ জন, চট্টগ্রামে ২৪ জন, রাজশাহীতে ২৪ জন, বরিশালে ছয় জন, সিলেটে দুই জন, রংপুরে ১১ জন এবং ময়মনসিংহে পাঁচ জন রয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ১২৬ জন। বেসরকারি হাসপাতালে ২৯ জন এবং বাসায় মারা গেছেন পাঁচ জন। হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে তিন জনকে।