পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিধান পরিষদ গঠনের প্রস্তাব পাশ হলো। দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতায় পাশ হলেও প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বিজেপি। এবার প্রস্তাবটি বিল আকারে ভারতের লোকসভা এবং রাজ্যসভায় যাবে। সেখানে পাশ হলে বিলটি আইনে পরিণত হবে। তার পর ভারতের রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলে বিধান পরিষদ বিলটি আইনে পরিণত হবে। বিধান পরিষদ গঠিত হলে বিধানসভার এই উচ্চকক্ষ থেকে নির্বাচিত হয়েই মমতা ব্যানার্জি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন। বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ী না হয়ে আসলেও চলবে। কারণ ভারতের রাজ্যসভার সদস্যরা যেমন এমপি হন তেমনই বিধান পরিষদের সদস্যরা এমএলএ-এর মর্যাদা পান।
গতকাল মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের আনা বিধান পরিষদ গঠনের প্রস্তাবটি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের এমএলএদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ হয়। শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটি হয়। সেখানে ২৬৫ জন ভোট দেন। ১৯৬ জন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়ায় দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতায় প্রস্তাব পাশ হয়ে যায়। বিরোধিতা করেন ৬৯ জন। এর বিরোধিতায় পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘বিধান পরিষদ গঠন হলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে।’
পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরই অ্যাডহক কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে এ প্রস্তাব পেশ করা হয়েছিল। তবে সে সময় বিষয়টি গতি পায়নি। গত মে মাসে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পরই মমতা পশ্চিমবঙ্গে বিধান পরিষদ গঠনে উদ্যোগী হন।
ভারতে ছয়টি রাজ্যে বিধান পরিষদ রয়েছে। সেগুলো হলো উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার, কর্ণাটক, অন্ধ্র প্রদেশ এবং তেলেঙ্গানা। পশ্চিমবঙ্গেও এক সময় বিধান পরিষদ ছিল। ১৯৬৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় কংগ্রেস সরকারের পতন হয়। সিপিএম নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠিত হয়। সেই সময় পশ্চিমবঙ্গ বিধান পরিষদের অবলুপ্তি হয়।
যদিও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিধান পরিষদ গঠনের প্রস্তাব পাশ হলেও তা আইনে পরিণত হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ ভারতের লোকসভায় বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় প্রস্তাবটি নিয়ে তারা বিরোধিতা করেছে। ফলে লোকসভায় তারা বিলটি আটকে দিতে পারে। বিধান পরিষদ বিলটি রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকর সই করার পর লোকসভায় যাবে।
