পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার কাবিননামা সম্পন্ন হবার কথা ছিল। আর শুক্রবারে (৯ জুলাই) লাল বেনারসি শাড়ি পরে বধূ সেজে বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল তৈয়বার। কিন্তু দুর্বৃত্তদের ছোড়া অ্যাসিডে চোখমুখ ঝলসে গিয়ে এখন যন্ত্রণায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন সেই তরুণী।
কক্সবাজারের রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের মাঝিরকাটা গ্রামে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে অ্যাসিড নিক্ষেপের এ ঘটনা ঘটে। অ্যাসিডে দগ্ধ তৈয়বা (১৮) রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের মাঝিরকাটা গ্রামের মোজাফ্ফর আহমদের মেয়ে। নিক্ষিপ্ত অ্যাসিডে তার ডান চোখ ও মুখমণ্ডল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিয়ের পিঁড়িতে বসার দুই দিন আগে এমন ঘটনায় হতবিহ্বল পরিবারটি।
তৈয়বার বাবা মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার ভোরে মায়ের সঙ্গে প্রকৃতির ডাক সারতে বেরিয়েছিল তৈয়বা। কিন্তু কিছু বুঝে উঠার আগেই তৈয়বার মুখে অ্যাসিড ছুড়ে মারে আগে থেকে ওঁত্ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পরপরই মেয়েটিকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
মোজাফ্ফরের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে নুরুল আবছার, মো. ফরিদরা তার মেয়েকে অ্যাসিড নিক্ষেপ করে থাকতে পারে। কারণ পাওনা টাকাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে শত্রুতার জন্ম হয়েছে। এর জেরে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি গিয়ে তারা নানা কথাও বলে এসেছে।
গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ড মাঝিরকাটা এলাকার সদস্য (মেম্বার) কামাল হোসেন ভিকটিমের পরিবারের বরাত দিয়ে বলেন, পক্ষকাল আগে পার্শ্ববর্তী গ্রামের এক ছেলের সঙ্গে তৈয়বার বিয়ের কথা ঠিক হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন মোজাফ্ফর আহমদ। কিন্তু এরই মধ্যে বাদশা মিয়ার ছেলেরা মেয়ের শ্বশুরবাড়ি গিয়ে তাকে বৌ না বানাতে হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন মোজাফ্ফর। এ নিয়ে সালিশ বসার কথা থাকলেও তিনি (মোজাফ্ফর) চাষের কাজে ব্যস্ত থাকায় আর আসেননি। এরই মধ্যে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটল। পুলিশ এসে তৈয়বার একটি ওড়না পেয়েছে যা অ্যাসিডে ঝলসে যাওয়া।
রামু থানার ওসি আনোয়ারুল আলম বলেন, অ্যাসিড নিক্ষেপের নৃশংস ঘটনার খবর পেয়ে থানা পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে, অ্যাসিড নিক্ষেপকারীদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করা হবে। এদিকে, জঘন্য এ ঘটনাটি প্রকাশ পাবার পর জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।
