মাহবুব শরীফ
সম্প্রতির কয়েক বছরে প্রযুক্তির পরিবর্তন হয়েছে খুব দ্রুত। প্রতি প্রযুক্তির নতুন নতুন সংস্করণ আসছে আমাদের কল্যাণে। বিশেষ করে কম্পিউটারে ব্যবহার্য বেশ কয়েকটি প্রযুক্তিতে পরিবর্তন আসছে আমাদের চোখে পড়ার মতো। একই সঙ্গে উপযোগীতা হারাচ্ছে অনেক প্রযুক্তি। উপযোগীতা হারানো এমন ৬টি প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এ লেখায়।
প্যারালাল এটিএ (পাটা)
প্যারালাল অ্যাডভান্সড টেকনোলজি অ্যাটাচমেন্ট (পাটা -PATA)কে অনেকে ইন্টিগ্রেটেড ডিভাইস ইলেকট্রনিক্স বা আইডিই (IDE) নামেও চিনে থাকেন। কম্পিউটারের সাথে বিভিন্ন ধরনের হার্ডওয়্যার বা অপটিক্যাল ড্রাইভ যুক্ত করতে আশির দশকের মাঝামাঝি যাত্রা শুরু করে PATA। তবে সময়ের সাথে সাথে অনেকটাই বেমানান হয়ে পড়েছে এই প্রযুক্তি। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কম্পিউটারের অপরিহার্য অংশ হয়ে ওঠা PATA অবশ্য তার রাজত্ব হারায় সিরিয়াল এটিএ বা (SATA)’র আবির্ভাবে। এখনও অনেক জায়গায় এর ব্যবহার থাকলেও কয়েক বছর পরে হয়তো আর এর নামই শোনা যাবে না।
পিএস/২ কানেক্টর (PS/2)
কিবোর্ড এবং মাউসের মতো বহুল ব্যবহূত দুইটি পেরিফেরালকে পিসির সাথে সংযুক্ত করতে আইবিএম ১৯৮৭ সালে নিয়ে আসে পিএস/২ কানেক্টর। দীর্ঘদিন ধরেই কিবোর্ড-মাউস পিসিতে সংযুক্ত করতে এর বিকল্প ভাবতেও হয়নি মানুষকে। তবে ইউএসবি’র আবির্ভাব দ্রুত পুরোনো করে দিয়েছে একে। এখনকার দিনে বাজারে গিয়ে পিএস/২ পোর্টের মাউস বা কিবোর্ড খুঁজে পেতে কষ্টই করতে হয়। অনেক অফিসেই অবশ্য ইউএসবি পোর্ট নিষ্ক্রিয় রাখার ফলে এখনও এর ব্যবহার রয়েছে। তবে তাও খুব বেশিদিন বোধহয় থাকবে না।
ইউএসবি ১.০ ও ২.০
দ্রুত গতির তথ্য স্থানান্তরে এক যুগান্তকারী প্রযুক্তি ইউএসবি। ইউএসবি বাজারে আসার পর থেকেই দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। দেখতে দেখতে প্রথম সংস্করণ শেষে দ্বিতীয় সংস্করণের ইউএসবি ২.০ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। তবে কয়েক বছর আগে ইউএসবি ৩.০ আগে দৃশ্যপটে। আর তাতে করেই ইউএসবি ২.০ অনেক ধীরগতির হয়ে গেছে অনেকের কাছেই। ফলে ইউএসবি ১.০ আর ২.০ কে এখন পুরোনো বাতিল প্রযুক্তির কাতারে ফেলা যায় সহজেই।
ইসাটা (eSATA)
হার্ডডিস্ক বা ইন্টারনাল স্টোরেজগুলোতে সর্বোচ্চ গতির তথ্য স্থানন্তর নিশ্চিত করতে পারে ইসাটা। তবে এর মূল সমস্যা হলে এতে তথ্য স্থানান্তরে একটি কেবলের পাশাপাশি ডিভাইসকে সচল রাখতে পৃথক পাওয়ার কেবল প্রয়োজন হয়। ফলে এক্সটার্নাল ড্রাইভ ব্যবহারের উপযোগী নয় এটি। তাছাড়া ইউএসবি ৩.০ আর থান্ডারবোল্ট এর চেয়ে অনেক বেশি গতি প্রদানে সক্ষম। ফলে ইসাটার সময় প্রায় ফুরিয়ে এসেছে, এটা বলাই যায়।
ভিজিএ
ভিডিও গ্রাফিক্স অ্যারে বা ভিজিএ দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহূত হয়ে আসছে পিসিতে। তবে এর দিন বোধহয় শেষ হয়ে আসছে। নতুন নতুন ধরনের ডিসপ্লে প্রযুক্তি বাজারে আসতে থাকায় ভিডিজএ ক্রমেই মনোযোগ হারাচ্ছে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের। সেই সাথে কম্পিউটার নির্মাতাদেরও অনেকেই ভিজিএ পোর্ট ব্যবহার করা বাদ দিতে শুরু করেছেন। ফলে ভিজিএ’র আর বেশিদিন আয়ু নেই।
অ্যানালগ সারাউন্ড সাউন্ড
সাউন্ড সিস্টেমকে পিসির সাথে সংযুক্ত করতে সারাউন্ড সাউন্ডের ব্যবহার অত্যন্ত পুরোনো। এর শুরুটা অ্যানালগ সারাউন্ড সাউন্ড দিয়েই। এই সিস্টেমে সাইড স্পিকার, রেয়ার স্পিকার, সাবউফার, মাইক্রোফোন এবং প্রতিটি অংশের জন্য আলাদা আলাদা পোর্ট থাকত। তবে এরকম সারাউন্ড সাউন্ড সিস্টেমের আর ব্যবহার নেই বললেই চলে। এখন ডিজিটাল সারাউন্ড সাউন্ড সিস্টেমের যুগ। স্পিকার সিস্টেমের জন্য তাই ডিজিটাল স্টেরিও ২.০ আউটপুটই চাহিদা আবার। ইতোমধ্যেই এই অ্যানালগ সিস্টেমের ব্যবহার কমে এসেছে। আর কিছুদিন পর হয়তো আর দেখাই যাবে না এই সিস্টেম।
