বিনোদন ডেস্ক
বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা দিলীপ কুমার মারা গেছেন। বুধবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৮ বছর। বর্ষীয়ান এই অভিনেতার মৃত্যুতে ভারতের চলচ্চিত্র জগতে শোকের ছায়া নেমেছে।
চল্লিশের দশকে সিনেমায় আসা ইউসুফ খান ওরফে দিলীপ কুমার মাত্র ৬৩টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে সাফল্য কিংবা অর্জনের তালিকা তার দীর্ঘ। চলচ্চিত্র তারকা হিসেবে নিজের ইমেজ ও ব্যপ্তির দ্যুতি এতটা ছড়াতে পারেননি কেউই। এই মহীরুহ’র বিদায়ে অমিতাম বচ্চন, আমির খান ও শাহরুখ খানের স্মৃতিচারণ গ্রন্থিত হলো কিংবদন্তীর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ হিসেবে।
তিনি ছিলেন নায়কদের নায়ক : অমিতাভ বচ্চন
দিলীপ কুমারের অটোগ্রাফ পেতে আমার ৪৬ বছর লেগেছে। প্রথম বার মা-বাবার সঙ্গে গিয়েছিলাম দক্ষিণ মুম্বইয়ের একটি হোটেলে, যেখানে দিলীপ কুমার সবান্ধবে উপস্থিত ছিলেন। নায়ককে ঘিরে ভিড়ের কারণে আর কাছে যেতে পারলাম না। খুব মন খারাপ হয়েছিল। তবু হাল ছাড়িনি। কিছুকাল পরে আরেকটি সুযোগ আসে। তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু একটা পার্টি দিয়েছিলেন। দিলীপ কুমার, দেব আনন্দ, রাজ কাপুর হাজির সেই জমকালো পার্টিতে। কিন্তু সেই পার্টিতেও প্রিয় তারকার অটোগ্রাফ নিতে পারিনি। এমনকী ১৯৮২ সালে ‘শক্তি’ ছবিতে দিলীপ কুমারের সঙ্গে কাজ করলেও আমি তাঁর অটোগ্রাফ সংগ্রহে ব্যর্থ হই। অবশেষে স্বপ্ন সত্যি হয় ২০০৫ সালে। রানি মুখার্জির সঙ্গে ‘ব্ল্যাক’ সিনেমায় ছিলেন অমিতাভ। রানির আমন্ত্রণে স্ত্রী সায়রা বানুকে নিয়ে ছবি দেখতে এসেছিলেন দিলীপ কুমার। ছবি দেখে আপ্লুত দিলীপ কুমারজী আমাকে একটা দীর্ঘ চিঠি লেখেন। তাতে অনেক প্রশংসাবাক্য থাকলেও চিঠির শেষে দিলীপ কুমারের সই দেখেই খুশিতে আত্মহারা হয়ে যাই আমি। কারণ এ স্বাক্ষর আমার কাছে অমূল্য। আসলে তিনি ছিলেন নায়কদের নায়ক।
দিলীপ সাবের নিজের আলো আছে, তিনি সেই আলো তৈরি করেছেন :শাহরুখ খান
ছোটবেলা থেকেই আমি দিলীপ সাবকে জানতাম। কারণ, বাবা তাঁকে চিনতেন। পরে কেতন মেহতার সঙ্গে কাজের সময় তাঁর অফিসে আমি দিলীপ কুমারের ছবি দেখে অবাক হয়ে যাই। আরে! এ তো আমি! আমার মতনই লাগছে। সত্যিই দিলীপ সাব আর সায়রাজি আমাকে তাঁদের ছেলের মতন ভালবেসেছেন। দিলীপ সাবের নিজের আলো আছে, তিনি সেই আলো তৈরি করেছেন। সেই আলোতেই আমরা মজে আছি এত কাল।’
তিনি ছিলেন প্রাণের বাড়ি :আমির খান
দিলীপ কুমার মূলত আমাদের এই কাছে এক প্রাণের বাড়ির মতো ছিল। হয়ত দেখা নেই অনেকদিন। কিন্তু মনে হতো আমাদের একজন দিলীপ কুমার আছেন, যিনি এখনও এদেশে রোজ সকালটা দেখেন। আর চোখ খুলে সকালটা দেখবেননা ঠিকই, কিন্তু তিনি আমাদের ভেতরেই এক দারুণ অনুভব হয়ে বেঁচে থাকবেন। এত বৈচিত্রপূর্ণ কাজ আমরা তেমন কেউই করতে পারিনি। আমাকে ভীষণ আদর করতেন। আমার বেশ ক’টি ছবি দেখে উনি ফোন করেছেন। এমন এক মহীরুহ’র চলে যাওয়াটা মেনে নেয়া কষ্টের। অসুস্থ অবস্থায় যতবার গিয়েছি, সেই চিরচেনা হাসি দিয়ে আলিঙ্গন করেছি। কী করে ভুলবো এত সব স্মৃতি।
