বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেক মা-বাবাই তাদের সন্তানের খোঁজ-খবর রাখেন না। কখন কী করছে কোনো বিষয়ে ভ্রূক্ষেপ নেই তাদের। করোনা কালীন সময়ে সেশনজট ঠেকাতে সরকার অনলাইন ক্লাসের নির্দেশনা দিয়েছেন ঠিকই কিন্তু তার কতটা কার্যকর হচ্ছে তা কি কেউ জানি! লক্ষ করা যায় যে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসের পাশাপাশি বিভিন্ন গেমস কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা অন্যান্য সাইটে বেশ সময় পার করছে। আদৌও ক্লাস করছে কিনা কে জানে? কেননা পরিস্থিতি এমন যে ক্লাসে উপস্থিত থেকে ঘুমালে বা অন্যান্য কাজ করলেও বোঝার উপায় নেই। অনলাইন ক্লাসের বাহানায় মা-বাবাদের বোকা বানিয়ে অনেক সময় ব্যয় করছে অনলাইন গেমসে অথবা চ্যাটিংএ। যার কারণে তারা অনলাইনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এমনকি তাদের আচার-আচরণও পরিবর্তন হচ্ছে। দিনদিন মেজাজ খিটখিটে স্বভাবের হচ্ছে এবং রাত জাগার প্রবণতা বেড়েছে। বাস্তব দুনিয়া থেকে তারা সবসময় দূরেই রয়ে যাচ্ছে। শহর বা গ্রামের পাঁচ থেকে সাত বছরের বাচ্চারাও ফ্রি ফায়ার কিংবা পাবজিতে সময় পার করছে। শুধু এইটুকুই নয়, দেখা যায় সদ্য বেড়ে ওঠা শিশুর কান্না থামাতেও হাতে ফোন তুলে দেওয়া হচ্ছে যার ফলে তারা ছোট থেকেই ফোনের প্রতি আসক্ত হচ্ছে।
এমন অবস্থায় মা-বাবার উচিত তাদের ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখা। এতো সময় ধরে অনলাইনে ক্লাস করছে নাকি অন্যকিছু করছে এসব বিষয়ে নজরদারি করা। নিজেদের ব্যস্ততা কাটিয়ে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানো। ইন্টারনেট আসক্তি কমাতে অবসর সময়ে সন্তানদের হাতে ফোন না দিয়ে বই তুলে দিন। তাদের সঙ্গে ভালো দিক মন্দ দিকগুলো নিয়ো আলোচনা করুন। ইন্টারনেট আসক্তি কিন্তু মাদকাসক্তির মতোই একটি সমস্যা। যার কারণে অনেক ছেলেমেয়েই বিপথে যায়। তাই আপনারা সন্তানদের প্রতি যত্নবান হোন। সন্তানদের ইন্টারনেট আসক্তি কমাতে একমাত্র পরিবারই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে।
সিনথিয়া সুমি
শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ
