২০২০-২১ অর্থবছর
রপ্তানিতে তৈরি পোশাক খাতের অংশ কমছে
ইত্তেফাক রিপোর্ট
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে আগের অর্থবছরে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক বড় ধাক্কা খেলেও সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে (২০২০-২১) রপ্তানি বেড়েছে। এ রপ্তানি বেড়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের কাছাকাছি চলে গিয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাব অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২০-২১ অথবছরের জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে সার্বিক রপ্তানি বেড়েছে ৫০৮ কোটি ডলার বা প্রায় ৪৩ হাজার ২১৫ কোটি টাকার। এর মধ্যে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩৫০ কোটি ৭৫ লাখ মার্কিন ডলারের, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ২৯ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা।
অবশ্য তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার আগে দেশ থেকে যে পরিমাণ রপ্তানি হতো আমরা এখনো সে পর্যায়ে যেতে পারিনি। গত অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি বাড়লেও এখনো পর্যন্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছি আমরা।
রপ্তানি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানিতে তৈরি পোশাক খাতের অংশ কমে গিয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে যেখানে তৈরি পোশাক খাতের অংশ ছিল ৮৩ ভাগ সেখানে গত অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮১ ভাগে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাতের অংশ ছিল ৮৪ ভাগ।
তথ্যে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে আগের অর্থবছরের চেয়ে নিটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। আর ওভেন রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। নিওয়্যার রপ্তানি করে গত অর্থবছরে আয় হয়েছে ৩ হাজার ১৪৫ কোটি ৬৭ লাখ ডলার বা দুই লাখ ৬৭ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা। সেখানে ওভেন রপ্তানি করে আয় হয়েছে এক হাজার ৬৯৬ কোটি ডলার বা এক লাখ ৪৪ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। পোশাকের দরও কমে গেছে। তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সামপ্রতিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২০ সালে নিটওয়্যার পণ্যে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হওয়া ১২ ধরনের পোশাকের দর কমেছে আগের বছরের (২০১৯ সাল) তুলনায় ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আর আট ধরনের ওভেন পোশাকের রপ্তানি মূল্য কমেছে গড়ে ১ শতাংশ।
পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম ইত্তেফাককে বলেন, পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে আগের বছরের চেয়ে ভাল অবস্থানে গেলেও আমরা এখনো কোভিডপূর্ব অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি। চলতি বছরে সে অবস্থার উত্তরণ হবে বলে আশা করা যায়। নতুন নতুন অর্ডার আসা শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, আট বছর পর বাংলাদেশে আসছে বিশ্বখ্যাত পোশাক ব্র্যান্ড ওয়াল্ট ডিজনি। রানা প্লাজা ধসের পর পোশাক কারখানার কর্মপরিবেশ মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর যুক্তরাষ্ট্রের এ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে তাদের ব্যবসা সরিয়ে নিয়েছিল। এটা বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য সুখবর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশের পোশাকের প্রধান গন্তব্য ২৭ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। এর বাইরে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপানও পোশাক বড় বাজার। রপ্তানিকৃত পোশাকের ৮০ শতাংশের ওপরে যায় এসব দেশে।
