পোস্তগোলা সেতুর নিচে বাগান নষ্ট করে ট্রাকস্ট্যান্ড করার পাঁয়তারা

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২১, ২১:৪৩

 

বিআইডব্লিউটিএর ভূমিকায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

এইচ এম আমীন,  কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) সাংবাদদাতা

পোস্তগোলায় অবস্থিত চীন মৈত্রী বুড়িগঙ্গা সেতুর ঢালে হাসনাবাদ এলাকায় বুড়িগঙ্গার তীরে নাইয়াটোলা মৌজার ৬৮ শতাংশ জমি দখলমুক্ত করে গত বছর বিআইডব্লিউটিএ দৃষ্টিনন্দন বাগান তৈরি করেছে। এলাকাবাসী প্রতিদিন সকাল ও বিকালে এখানে হাঁটা ও খেলাধুলাসহ মুক্ত বাতাস উপভোগ করে থাকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এখানে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান স্ট্যান্ডের জন্য মালিক সমিতিকে ইজারা দিতে বিআইডব্লিউটিএ মরিয়া হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসী ও সুশীল সমাজ জানায়, পোস্তগোলা সেতুর দক্ষিণ ঢালে বিআরটিএ ঢাকা দক্ষিণের অফিস এবং পানগাঁও নৌবন্দর। এ ছাড়া  এ সড়কে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের শরীয়তপুর, মাদারীপুর, রবিশাল,  গোপালগঞ্জ, পিরোজপুর ও খুলনাসহ ১৯টি জেলায় হাজার হাজার বাস ও ট্রাক চলাচল করে। এ সড়কে যানজট কমাতে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককে আট লেনে প্রশস্ত করাসহ পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ  সমাপ্তির পথে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএ পোস্তগোলা সেতুর নিচের অংশকে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের স্ট্যান্ড হিসেবে মালিক সমিতিকে ইজারা দিলে সেতুতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হবে। সেতুর ঢাল থেকে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মাওয়া রোডে ওঠা-নামা করলে দক্ষিণ অঞ্চলের হাজার হাজার যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়বে। সেক্ষেত্রে সেতুও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। এ ছাড়া প্রতিদিন এমনিতেই ঢাকা দক্ষিণ বিআরটিএ কার্যালয়ে বিভিন্ন যানবাহনের ফিটনেস ও নাম্বার প্লেট লাগাতে আসেন সংশ্লিষ্টরা। সেসব যানবাহনকেও সেতুর ঢাল ঘেঁষে পাশে ঢুকতে হয়। তাছাড়া পানগাঁও নৌবন্দরে যাতায়াতকারী পণ্যবাহী গাড়িগুলোও একই সড়কে চলাচল করে থাকে। ফলে প্রায়ই এখানে যানজট লেগে থাকে। তার ওপর ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান স্ট্যান্ড করা হলে কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তা সহজেই অনুমেয়। ঢাকা দক্ষিণ ট্রাফিক বিভাগের টিআই শাহিদুর রহমান জানান, তাদের ছয় জন টি আই, ১২ জন সার্জেন্ট ও ১৫ জন ট্রাফিক পুলিশ দিন-রাত পোস্তগোলা সেতু ও বাবুবাজার সেতুর ঢালে যানজট নিরসনে কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খান। এরপর যদি কর্তৃপক্ষ পোস্তগোলা সেতুর ঢাল ঘেঁষে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান স্ট্যান্ড করে তা হবে গোদের ওপর বিষফোড়া। তাতে হাসনাবাদ এলাকায় যানজট লেগেই থাকবে।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শাহীন আহমেদ জানান, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ ও মিরেরবাগসহ এলাকাবাসী প্রতিদিন সেতুর নিচে পার্কটিতে হাঁটা-চলাসহ বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে বসে মুক্ত বাতাস উপভোগ করে আসছেন। তারা পরিবেশ ও বাগানটি নষ্ট করে কিছুতেই ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান স্ট্যান্ড করতে দিবে না। তিনি আরো বলেন, গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর অর্ধশতাধিক অবৈধ ইট, বালি, পাথর ও সিমেন্টের গদিসহ অর্ধশতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করে তা পুনর্দখল ঠেকাতে বিআইডব্লিউটিএ সেখানে গাছের চারা রোপণ করে। বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ট্রাক মালিক সমিতির যোগসাজশে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির নামে ইজারা দিতে মরিয়া হয়ে উঠে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি চালাচালি করছে। এ বিষয়ে ঢাকা নদী বন্দর যুগ্ম পরিচালক গুলজার আলী জানান, সেতুর নিচে ট্রাক মালিক সমিতি ইজারা নেওয়ার জন্য আবেদন করেছে। প্রস্তাবটি প্রক্রিয়াধীন আছে। সরকার চাইলে স্ট্যান্ড হবে, না চাইলে হবে না।