ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজে ধীরগতি

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২১, ২১:৪৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও ঢিমেতালে চলছে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপনের কাজ। নেই হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা। সিসিইউ শয্যার ব্যবস্থার জন্যে দেড় বছর ধরে চিঠি দিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডের বেহাল অবস্থা। ঐ ওয়ার্ডে যে যেভাবে পারছে ঢুকছে আর বের হচ্ছে, বাইরে গিয়ে হোটেল থেকে খেয়ে এসে আবার বেডে শুয়ে পড়ছে।

করোনার উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে রবিবার হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা হয়। সেখানে করোনা আক্রান্তদের চিকিত্সা ব্যবস্থায়  দৈন্যদশার চিত্রও উঠে আসে। এই অবস্থাতে ৫০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী এলে তাদেরকে সামলানো কঠিন হয়ে যাবে বলে সভায় জানানো হয়। ৫০ শয্যার কোভিড ওয়ার্ড শুধু কাগজপত্রেই। বাস্তবে সেখানে শয্যা রয়েছে ৩০টি। তিন মাস আগে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টের কাজ শুরু হয় বলে জানা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত প্ল্যান্ট বসানোর জন্যে ঘর বানানোর কাজই শেষ হয়নি। কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড পেনডামিক প্রিপিয়ারনেস প্রকল্পের আওতায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এই প্ল্যান্ট স্থাপন করা হচ্ছে।

সভায় আইসিইউ শয্যা নিয়ে আলোচনায় জানানো হয়, দেড় বছর ধরে এ নিয়ে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। কোভিড ওয়ার্ডের বিশৃঙ্খল অবস্থার বিষয়টিও স্থান পায় সভায়। কোভিড ওয়ার্ডে অবাধে লোকজন আসা যাওয়া করছে, বাইরে যেয়ে ঘোরাফেরা করছে। এনিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের উল্লেখ করে সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। তবে বৈঠকে আলোচনার পর সোমবার কোভিড আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়মকানুন কড়াকড়ি করা হয়েছে বলে জানান হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ওয়াহীদুজ্জামান। সেখানে তিন জন সিকিউরিটি গার্ড বসানো হয়েছে। কেউ ভেতরে ঢুকতে পারবে না। আরো ছয়টি বেড বাড়িয়ে এখন ৩৬ বেড করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন মো. একরাম উল্লাহ জানান, আইসিইউ শয্যার জন্য করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই তারা লিখছেন। ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী এ জেলায় করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হতে থাকলেও করোনা চিকিত্সায় হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি অনেক। রোগীদের উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহের জন্য হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা নেই। এছাড়া আক্রান্ত রোগীর ফুসফুস কত শতাংশ পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছে, সেটি জানার জন্য সিটি স্ক্যান ও পোর্টেবল এক্স-রে সুবিধাও নেই। ফলে আক্রান্ত রোগীদের শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে তাদেরকে ঢাকায় রেফার করা ছাড়া কোনো উপায় নেই কর্তৃপক্ষের।