মার্টিনেজ নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনা ফাইনালে

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২১, ২১:৫০

কলম্বিয়ার তিনটি শট থামিয়ে দিয়েছেন তিনি

 সোহেল সারোয়ার চঞ্চল

রাতে ইউরোর সেমিফাইনালে ইতালি-স্পেনের ম্যাচের ঝাল তখনো কাটেনি। তিন ঘণ্টা না যেতে কোপায় আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়া ম্যাচের উত্তাপ চোখের ঘুম এক নিমিষেই কেড়ে নিয়েছিল। গোল করে এগিয়ে থাকা আর্জেন্টিনাকে একটা সময় মনে হয়েছিল তীরে এসে তরি ডুবে যাবে। কিন্তু সেটি হয়নি। ম্যাচটা ৯০ মিনিট (১-১) হয়ে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও ফাইনালে টিকিট কনফার্ম হচ্ছিল না। টাইব্রেকিংয়ে গিয়ে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে কলম্বিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে উঠল। আগামী ১২ জুলাই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল মারাকানায়।

দর্শকও চাইছিল এই দুই দলের মহারণ দেখতে, তাদের চাওয়া পূরণ হয়েছে। নেইমারও আগের দিন বলছিলেন আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে চান তিনি।

কলম্বিয়াকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে উঠতে মেসি, মার্টিনেজ, পেজ্জিলা, ওতামেন্ডি, লাওতারো মার্টিনেজ, মনিলা, রদ্রিগেজদের ঘাম ঝরাতে হয়েছে। কলম্বিয়াকে যারা সহজ মনে করেছিলেন, তা হয়নি। ম্যাচটাকে টেনে টাইব্রেকিংয়ে নিয়ে গিয়েছে কলম্বিয়া। 

আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার নায়ক এবার গোলকিপার দামিয়ান ইমালিয়ানো মার্টিনেজ। টাইব্রেকিংয়ে এই গোলকিপার তিনটি শট ঠেকিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছেন। কলম্বিয়ার সানচেজ, করডোনার, মিনা গঞ্জালেসের শট থামিয়ে দিয়েছেন তিনি। শেষ শটে কারডোনাকে ঠেকিয়ে দিলে নিশ্চিত হয়ে যায় মেসিরা ফাইনালে। তাকে ব্রাসিলিয়ায় মানে গারিঞ্চার মাঠে গোলকিপারকে নিয়ে উল্লাস। কাঁদলেন মেসিদের গোলকিপার দামিয়ান ইমালিয়ানো মার্টিনেজ।

মেসিদের আক্রমণের সব অস্ত্র ব্যবহার করেও কাজ হচ্ছিল না। ম্যাচটা চলে গিয়েছিল টাইব্রেকিংয়ে, ভাগ্যের সুতোয়। সেখানে যে কেউ মারা পড়বেই। গোলকিপার যদি ভাগ্যক্রমে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন তাহলে ভাগ্যের টানে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুলে যায়। আর্জেন্টিনার জন্য সেটাই হয়েছে। ঝড়ের মধ্যে আত্মবিশ্বাসী নাবিকের মতো হাজির হলেন গোলকিপার মার্টিনেজ। আর্জেন্টিনার মতো বড় জাহাজটিকে ফাইনালের মঞ্চে নোঙর করালেন।

অথচ এই ম্যাচের আট মিনিটেই লাওতারো মার্টিনেজের গোলে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। অধিনায়ক লিওনেল মেসি ছিলেন সেই গোলের উত্স। গোল পেয়ে মেসি দৌড়ে লাওতারো মার্টিনেজের পেছনে উঠে ঘোড়ায় চড়ার অভিনয় করলেন। ৬১ মিনিটেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন কলম্বিয়ার ফারনান্দো দিয়াজ। আর্জেন্টিনার পেজ্জিলাকে গতির লড়াইয়ে পেছনে ফেলে প্রায় জিরো অঙ্গেল হতে গোল করে স্কোর লাইন সমান করেন। অবিশ্বাস্য ফিনিশিংয়ে গোল হয়েছে। গোলের পরই নিকোলাস গঞ্জালোকে তুলে নিয়ে তুরুপের তাস ডিমারিয়াকে নামান কোচ লিওনেল স্কালিনিও।

প্রথম সুযোগেই ডিমারিয়া কলম্বিয়ার গোলকিপার অস্পিনাকে কাটিয়ে ফাঁকা পোস্টে বল ঠেলে দিয়েছিলেন লাওতারো মার্টিনেজকে। তার দুর্বল শট গোললাইন সেভ দিয়েছেন ডিফেন্ডার মিনা। মেসির আউটসুইং বল আবার ফেরান সেই মিনা। ততক্ষণে কলম্বিয়া আর আর্জেন্টিনার মধ্যে দুর্ধর্ষ ফাইট শুরু হয়ে গেছে। হার্ডট্যাকল করতে গিয়ে ফাউলের সংখ্যা বাড়ল। কলম্বিয়া ২৭ আর আর্জেন্টিনা ২০ বার ফাউল করে। হলুদ কার্ড হয়েছে ১০টা। মেসিকে বারবার ফাউল করছিল কলম্বিয়ান ফুটবলাররা। মেসি যেন সেটপিস হতে গোল করতে না পারে। সেই দিকে সফল হলেও স্পটকিকে মেসির গোলে সূচনা হয়। কলম্বিয়ার তিন ফুটবলার টাইব্রেকিংয়ে ব্যর্থ হওয়ায় খুশি হয়েছেন বাংলাদেশের দর্শক।